শীত চলে গিয়ে আসছে গরমের সময়। ঋতুবদলের এই সময়ে সর্দি-কাশি, জ্বর লেগেই থাকে। তবে বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে যে কয়েকদিন ভুগিয়ে সর্দি-জ্বর চলে গেলেও কিছুতেই যেতে চাইছে না কাশি। ঋতু বদলের এই অসময়ে ছড়িয়ে পড়ছে হুপিং কাশি।
হুপিং কাশি (পারটুসিস) একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। বরডাটেলা পারটুসিস ব্যাক্টেরিয়া থেকে এই সংক্রামক রোগটি হয়ে থাকে। শুধু বাচ্চাদের নয় বড়দেরও হতে পারে এই রোগ।
এক-দু সপ্তাহ ভাইরাল ইনফেকশনের মতো জ্বর, চোখ, নাক থেকে পানি বের হয়। সামান্য কাশি হয়। দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ কাশি হয়, অল্প সময়ের মধ্যে বহুবার একনাগাড়ে কাশি হতে পারে।
থেমে গেলে লম্বা শ্বাসের সঙ্গে ‘হুপ’ আওয়াজ হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চা বমিও করে ফেলতে পারে।
লক্ষণ
হুপিং কাশির লক্ষণগুলো সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রকাশ হয়। কখনও কখনও ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসার ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত কোন লক্ষণ দেখা যায়না।
হুপিং কাশির প্রাথমিক লক্ষণগুলো হল,
সর্দি, নাক বন্ধ, লাল, পানিভরা চোখ, জ্বর, কাশি
তবে এক বা দুই সপ্তাহ পরে লক্ষণগুলো খারাপ অবস্থা ধারণ করে।
বমি করা
কাশতে কাশতে মুখ লাল বা নীল বর্ণের হয়ে যায়
চরম ক্লান্তি সৃষ্টি হয়
কাশি থেমে গেলে লম্বা শ্বাসের সঙ্গে ‘হুপ’ আওয়াজ হয়
কারণ
সাধারণত বরডাটেলা পারটুসিস নামক একটি ব্যাক্টেরিয়ার জন্যই হুপিং কাশি হয়ে থাকে।
হুপিং কাশি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মাধ্যমে সহজেই একজন থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। হুপিং কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তি যখন হাঁচি বা কাশি দেয়, তখন ব্যাকটেরিয়াসহ ছোট কণা নির্গত হয়। এতে করে ওই স্থানে থাকা অন্যান্য মানুষেরা ওই ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসকরা কয়েকটি পরীক্ষা মাধ্যমে হুপিং কাশি শনাক্ত করে থাকেন। সেগুলো হল,
সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গ
শারীরিক পরীক্ষা
গলার পেছন থেকে শ্লেষ্মা নমুনা পরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা
হুপিং কাশির ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকেন। এই কাশির চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়।
তবে এক্ষেত্রে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। শরীর ‘হাইড্রেটেড’ রাখতে বেশি করে পানি খেতে হবে। স্যুপ বা ফলের রস খাওয়ানো যেতে পারে।
প্রতিরোধ
১. হুপিং কাশি প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হল ভ্যাকসিন নেওয়া। হুপিং কাশির প্রতিষেধক ভ্যাকসিনও আছে। বাচ্চার ২ মাস, ৪ মাস, ৬ মাস বয়স হলে টিকা দিতে হয়। বাচ্চার বয়স দেড় এবং পাঁচ বছর হলে আবার টিকা নিতে হয়।
যেহেতু বড় হয়েও হুপিং কাশি হতে পারে, তাই ১১-১৪ বছরের মধ্যেও হুপিং কফের ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।
২. হুপিং কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে থেকে দূরে থাকুন এবং সর্বদা মাস্ক পরিধান করুন।
৩. হুপিং কাশি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
৪. কাশি বা হাঁচির সময় আপনার মুখ ও নাক টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন।
৫. কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য সাবান এবং পানি দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে নিন।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক