ক্রিকেটার বাবার ছেলে জাতীয় ফুটবল দলে

হালিম শাহ ছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে আলোচিত নাম। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন ছিলেন। কয়েকটি আসরে লিগে শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় থাকত তার নাম। জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাথমিক তালিকায় নামও ছিল। নানা কারণে দেশের হয়ে আর মাঠে নামা হয়নি।

এক ধরনের অতৃপ্তি নিয়েই ২০০৫ সালে কানাডায় থিতু হন। তবে সেসময় ৭ বছর বয়সী ছেলে সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানির মাঝে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। চেয়েছিলেন যেন ছেলে তাকে ছাড়িয়ে একসময় বড় ক্রিকেটার হয়। বাবার স্বপ্ন কাজেম এই সময়ে এসে অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছেন- তবে ক্রিকেট নয়, জাতীয় ফুটবলে দলে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়ে!

ফুটবলের টানেই দেশে ফেরা কাজেমের। আবহাওয়া, সংস্কৃতি সকল প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে জাতীয় দলের স্বপ্নে খেলে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশের মিডফিল্ডার হয়ে দুই মৌসুম খেলছেন। গত বছর নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রায় ডাক পেয়ে যাচ্ছিলেন কাজেম। দল যখন প্রায় চূড়ান্ত সেই মুহূর্তে পুলিশের এক ম্যাচে আঘাত পেয়ে তালিকার বাইরে চলে যান কাজেম। সৌদি আরবের ক্যাম্পে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে হয়তো এবারই পড়তে পারবেন লাল-সবুজ জার্সি।

হালিম শাহর চাওয়া, ‘এখন ছেলে ২৮ জনে এসেছে। ফুটবলে চূড়ান্ত দল ২৩ জনের হবে। নিজেকে আরো প্রমাণ করে তাকে ২৩ এ আসতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে একাদশে। এখনো আরো অনেক পথ পারি দিতে হবে।'

বর্তমান সময়ে তরুণরা ক্রিকেটের দিকেই ঝুঁকে। একজন শীর্ষ ক্রিকেটারের ছেলে জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেলেন। হালিম শাহ বলেন, ‘ছেলে কানাডাতে ফুটবলই বেশি খেলেছে। তার ইচ্ছে ছিল ফুটবলার হওয়া। বাবা হিসেবে ছেলের স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। ফুটবল, ক্রিকেট সবই দেশের জন্য খেলা। আমার ছেলে দেশের জন্য খেলবে বাবা হিসেবে এর চেয়ে পাওয়া আর কি হতে পারে।’ 

বাবার লাল-সবুজ জার্সি পরার স্বপ্ন পূরণ না হলেও কাজেম নিজেই তা করে আক্ষেপ মেটাতে চাইছেন কাজেম শাহ, ‘জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াটা অনেক বড় কিছু। যারা সবচেয়ে ভালো খেলে তারাই এখানে জায়গা পায়। আমার মূল লক্ষ্যই এটা, জাতীয় দলে খেলা। জাতীয় দলে খেলার জন্য আমি বাংলাদেশে এসেছি। বাবা জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলতে পারেনি, কিন্তু আমি খেলতে চাই। তবে এখনও অনেক কিছু প্রমাণের বাকি আছে। অনুশীলনে বেশি বেশি গোল করতে হবে, নিজের সক্ষমতা দেখাতে হবে, যাতে সবার নজর কাড়তে পারি।’