স্বপ্নের কক্সবাজার গড়তে ২২ প্রকল্প

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে ছাড়া পর্যটনশিল্পের কথা ভাবা যায় না। শহরের পর্যটন নিয়ে মতামত জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার (অব.)

দেশ রূপান্তর : কক্সবাজারের পর্যটন বিকাশে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার : দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুটো প্রধান খাত হলো পোশাক খাত ও অন্যটি হলো প্রবাসী শ্রমিকদের আয়। এর বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত হলো এই পর্যটন খাত। আর কক্সবাজারকে বাদ দিয়ে পর্যটনের বিকাশ সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা ইতিমধ্যে ২২টি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এগুলোর কোনোটি অনুমোদন পেয়েছে, আবার কোনোটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে কক্সবাজার জোনে দেশীয় ও বিদেশি পর্যটক হুমড়ি খেয়ে পড়বে।

দেশ রূপান্তর : কী আছে এসব প্রকল্পে?

কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার : কেবল কারের কয়েকটি রুট রয়েছে। রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফের সাবরাং, কক্সবাজার-টেকনাফ, কক্সবাজার-মহেশখালী। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য সি-প্লেন চালু, গভীর সাগরে চলাচলের জন্য ক্রুজ লাইন, থিম পার্ক নির্মাণ, সিনেপ্লেক্স নির্মাণ, সার্কুলার ট্রাম নেটওয়ার্ক, আধুনিক শপিংমলসহ নানা প্রকল্প রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে কক্সবাজারে দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন করবে কে?

কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার : এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারী খুঁজছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। এসবের পাশাপাশি আমাদের দেশের প্রাইভেট সেক্টরও এগিয়ে আসতে পারে। তাদের সহায়তায়ও আমরা পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারি। আমরা ‘স্বপ্নের কক্সবাজার আগামীর পথচলা’ স্লোগান সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চাই।

দেশ রূপান্তর : সেন্টমার্টিনে অত্যধিক পর্যটকের ভিড় বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার : সেন্টমার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। পরিবেশ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এখানকার দর্শনার্থীর সংখ্যা কত রাখা যেতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এখানে অতিরিক্ত পর্যটক ও স্থাপনার ভিড়ে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, লাল কাঁকড়া, কাছিমসহ বিভিন্ন প্রাণী হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। তাই এখানে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এজন্য সাসটেইনেবল ইকো ট্যুরিজমের প্রকল্প নিতে হবে।

দেশ রূপান্তর : বিদেশি পর্যটকদের জন্য অ্যালকোহল সুবিধা প্রশ্নে আপনি কী মনে করেন?

কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার : বিশ্বে আরও মুসলিম দেশ রয়েছে। তারা যেভাবে বিদেশি পর্যটকদের সুবিধা দেয়, আমরাও সেভাবে দিতে পারি।

দেশ রূপান্তর : কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটনের সম্ভাবনা কেমন রয়েছে বলে মনে করেন?

দেশ রূপান্তর : চীন থেকে শুরু করে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারতের সেভেন সিস্টার্স, ভুটানসহ প্রভৃতি এলাকার দর্শনার্থীদের কাছে আমরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে উপস্থাপন করতে পারি। এই বিশাল এলাকার মানুষের জন্য এ ধরনের কোনো সমুদ্র সৈকত নেই। তাই কক্সবাজারে যদি পর্যটকবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা যেমন বাড়বে, বিদেশি পর্যটকও বাড়বে। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ বাড়বে।