চট্টগ্রাম হবে স্মার্ট কালচারাল সিটি

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর জেলার পর্যটন বিকাশে কাজ করছেন আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। এ নিয়ে তিনি তার নানা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছেন দেশ রূপান্তরকে

দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রামের পর্যটনের বিকাশে আপনার পরিকল্পনা কী?

আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান : আমি যোগ দেওয়ার পর ইতিমধ্যে পর্যটন করপোরেশনের সহায়তায় ছাদখোলা পর্যটন বাস সার্ভিস চালু করেছি। শাটল সার্ভিসের মতো এই বাস চালু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট সময়ে এসব বাস চলছে। ইতিমধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়েছে এই বাস সার্ভিস। আগে বায়েজীদ লিংক রোড, সাগর পাড়ের আউটার রিং রোড, ডিসি পার্ক ও পতেঙ্গায় মানুষ চাইলেও গণপরিবহন না থাকায় যেতে কষ্ট হতো। আমাদের এই সার্ভিস দর্শনার্থীদের ছাদখোলা বাসে পাহাড় ও সমুদ্র দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া, সীতাকু- ইকোপার্ক, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন পয়েন্টে যাতায়াতের জন্য চট্টগ্রাম থেকে মাইক্রোবাস সার্ভিস চালু করেছি। এসব মাইক্রোবাসের মাধ্যমে কেউবা গ্রুপ করে আবার কেউবা এককভাবে আমাদের ঘুরে আসতে পারে। আগামীতে চট্টগ্রামের সব পর্যটন স্পটে এমন সার্ভিস চালু করা হবে। এ ছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডিসি পার্কে ফুল উৎসব হবে এবং অন্যান্য সময়ে তা পার্ক হিসেবে চালু থাকবে। এই পার্ককে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে, সেই আলোকে তা গড়ে তোলা হবে।

দেশ রূপান্তর : এসব কাজ তো জেলা প্রশাসনের নয়। পর্যটন করপোরেশনের। তাহলে আপনারা কীভাবে এগুলো সমন্বয় করছেন? আর অর্থের সংস্থান করছেন কীভাবে?

ফখরুজ্জামান : এসব কাজ জেলা প্রশাসনের করার কথা নয়, তারপরও আমরা এগুলো করার জন্য পর্যটন নামে একটি সেল গঠন করেছি। সেই সেলের অধীনে চট্টগ্রামের পর্যটন বিকাশে কাজ করা হচ্ছে। আমার টার্গেট হলো এসব কাজকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে যাওয়া। যাতে আমি এখান থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলেও কার্যক্রমগুলো বন্ধ না হয়।

দেশ রূপান্তর : কোন প্রক্রিয়ায় এসব কাজ চলমান রাখবেন?

ফখরুজ্জামান : আমরা ইতিমধ্যে ডিসি পার্ককে আলাদাভাবে পরিচালিত করছি। ডিসি পার্কের আয়ে এখন ডিসি পার্ক চলে। তবে পর্যটক বাস সার্ভিস এখনো লোকসানে চলছে। সেই লোকসান আমরা জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে পুষিয়ে দিচ্ছি। এই সার্ভিসগুলোকে জনপ্রিয় করতে আরও কিছু কাজ হাতে নিতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা বায়েজীদ বোস্তামী মাজারে কিছু কক্ষ ও শৌচাগার সুবিধা আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান ক্লাব, সূর্য সেনের বাড়িসহ নগরের ভেতরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলোকে নিয়ে ‘নগর ট্যুর সার্ভিস’ নামে একটি সার্ভিস চালু করতে চাই। এসব কাজ সচল রাখতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট দেব। তাহলে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে এবং মানুষেরও কর্মসংস্থান হবে।

দেশ রূপান্তর : পর্যটন নিয়ে নতুন কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?

ফখরুজ্জামান : আমি চট্টগ্রামকে স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য একটি স্পোর্টস ও কালচারাল ক্যালেন্ডার তৈরির ইচ্ছে আছে। বছরের কোন কোন দিনে কোথায় কালচারাল উৎসব ও খেলা থাকবে সেগুলো সেই ক্যালেন্ডারে থাকবে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা স্পটে চলে যাবে। এ ছাড়া ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার পাশে একটি বার্ডস পার্ক, ডিসি পার্কে নৌকা জাদুঘর, সীতাকুন্ডের পাহাড়ে টেইল অব ট্রেস নামে একটি জিপিএস রুট করা হবে। এতে তরুণরা পাহাড়ে ট্রেকিং করতে পারবে।