নিশ্চিত করতে হবে পর্যটকের স্বস্তি

দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তারকা হোটেল পেনিনসুলার চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মাহবুুব-উর-রহমান। পর্যটন বিকাশে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেছেন দেশ রূপান্তরের কাছে

দেশ রূপান্তর : পেনিনসুলা পতেঙ্গায় একটি পাঁচ তারকা হোটেল চালু করতে যাচ্ছে চলতি বছরেই। এতে পর্যটনে কি প্রভাব পড়তে পারে?

মাহবুব-উর-রহমান : পতেঙ্গায় আমরা যে হোটেলটি চালু করতে যাচ্ছি এতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গাকেন্দ্রিক পর্যটনের পকেট গড়ে উঠবে। বিশ্বের অনেক দেশে আছে, ছুটির দিনগুলোতে মানুষ শহর থেকে কাছাকাছি দূরে গিয়ে সময় কাটিয়ে আসে। পতেঙ্গা এমনই একটি পর্যটন হাব হবে।

দেশ রূপান্তর : পতেঙ্গাকে পর্যটন স্পট হিসেবে আধুনিকায়ন করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একটি প্রকল্প নিয়েছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করবে। আপনি এটিকে কীভাবে দেখছেন?

মাহবুব-উর-রহমান : দেখেন, একদিকে সিডিএ করছে, অন্যদিকে ডিসি সাহেব ডিসি পার্ক করেছেন। এভাবে বিক্ষিপ্তভাবে পর্যটনের বিকাশ হয় না। এর জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান করা প্রয়োজন। সেই মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

দেশ রূপান্তর : কক্সবাজারে এখন অনেক আধুনিক হোটেল গড়ে উঠেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

মাহবুব-উর-রহমান : ভালো হোটেল হলেও এগুলোতে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট (ইটিপি) নেই। এতে হোটেলের স্যুয়ারেজ বর্জ্যগুলো পর্যায়ক্রমে সাগরে গিয়েই মিশে যায়। অন্যদিকে হোটেল ও বিচের প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো নিয়ে ডাম্পিং করা হয় বাকখালী নদীতে। সেখান থেকে পানির স্রোতে আবারও কক্সবাজার বিচে চলে আসে। এভাবে তো বিচ পর্যটক উপযোগী হবে না। করোনাকালে মানুষের এসব বর্জ্যরে উৎপাত ছিল না বলে কক্সবাজার সমুদ্রতীরের পানি পরিষ্কার ছিল এবং ডলফিন দেখা গেছে। একই বিচে পর্যটকরা ঘুরতে গেল, আবার একই স্থানে তাঁবু টাঙ্গিয়ে রান্নার আয়োজন। এই চিত্র নিশ্চয় পর্যটকদের স্বস্তি দেবে না।

দেশ রূপান্তর : তাহলে পর্যটনের বিকাশে কী করা প্রয়োজন?

মাহবুব-উর-রহমান : বিচে বিশেষ জোন থাকতে হবে। সেই জোনে যাতে পর্যটকদের বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকে। বিভিন্ন ধরনের রাইড, থিম পার্কসহ নানা আয়োজন রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যটকদের জন্য ফি ধার্য করতে হবে। তাহলে কম পর্যটক বেশি ফি দিয়ে ঘুরতে যাবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের রাতের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবেই আকর্ষণীয় হবে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন ও তিন পার্বত্য জেলা।

দেশ রূপান্তর : বিদেশি পর্যটকদের জন্য অ্যালকোহল সুবিধা কি দেওয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

মাহবুব-উর-রহমান : বিশ্বে আমাদের মতো মিসর, দুবাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ অনেক মুসলিম দেশ বিদেশি পর্যটকদের জন্য যে সুবিধা দিয়ে থাকে, আমরাও তা দিতে পারি। সে হিসেবে বিদেশিদের জন্য অ্যালকোহল সুবিধা দেওয়াই যেতে পারে।

দেশ রূপান্তর : তিন পার্বত্য জেলার সম্ভাবনা কতটুকু?

মাহবুব-উর-রহমান : শান্তি চুক্তির পর তিন পার্বত্য জেলা পর্যটনের বিশাল একটি ক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এসব এলাকায় লাইভ এভিয়ারি গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পার্বত্য এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত। এখন অনেক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠছে। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম পর্যটনের একটি হাব হিসেবে নিজের জায়গা গড়ে নিতে পারে। আমাদের পার্বত্য জেলার স্পটগুলো এবং চট্টগ্রামের ভেতরে পারকি সমুদ্র সৈকত, মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক, সহস্রধারা ঝরনা, সীতাকুন্ড ইকোপার্ক, গুলিয়াখালী বিচসহ অনেক স্পট রয়েছে।