মোহামেডানকে হারিয়ে ফাইনালে আবাহনী

মাঠে মর্যাদার লড়াইয়ে হারটা শুরুতে মেনে নিতে পারেনি মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শেষের সাইরেন বাঁজার সঙ্গে সঙ্গে তারা রিভিউর আবেদনের ছুঁতোয় চড়াও হয়েছিল আম্পায়ারদের ওপর। মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মোহামেডান অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি হুট করেই চড়াও হন আবাহনীর এক খেলোয়াড়ের ওপর। এক সময় দু'দলের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। পরে দু'দলের কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের শান্ত করার সঙ্গে সঙ্গে জয়োৎসব শুরু করে বিজয়ী আবাহনীর খেলোয়াড়রা। আবাহনী-মোহামেডান মর্যাদার ফাইনালের শেষটা হয় অনভিপ্রেত ঘটনায়।

ঢাকার হকিতে যা অতি পরিচিত চিত্র। বিশেষ করে জিমি মাঠে থাকলে তো কথাই নেই। যে কোন ছুতোয় যে কারও সঙ্গে তর্ক-সংঘর্ষ জুড়ে দিতে জুড়ি নেই এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি। রিভিউতেও মোহামেডানের দাবী ধোপে টিকেনি। চীর বৈরী আবাহনীর কাছে ম্যাচটা মোহামেডান হেরেছে ৩-২ গোলে। ক্লাব কাপ হকির ফাইনালের লাইন-আপটা তাই অনুমিত। দুই কাগুজে সেরার মধ্যে শনিবার হবে শিরোপার লড়াই। বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে উষা ক্রীড়া চক্রকে ৮-৪ ব্যবধানে হারিয়ে আগেই ফাইনালে পা রেখেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়ংস ক্লাব।

দুই চীর প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠের লড়াইটা হতে পারতো রোমাঞ্চকর। স্কোরলাইন দেখেও তাই মনে হবে। তবে সেটা হয়নি। আবাহানী প্রাধান্য বিস্তার করেই জিতেছে। যদিও প্রথম পিছিয়ে পড়েছিল তারা। পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে জিমির পুশ আল নাহিয়ান শুভ থামালে তা থেকে লক্ষ্যভেদ করেন আমিরুল ইসলাম। তিন মিনিট পর সমতায় ফিরেছে আবাহনী। ভারতের আব্রাহাম বেলিমাগ্গার পাসে পুস্কর খীসা মিমো পোস্টের সামনে থেকে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন। এই গোল হজমেই যেন তাল হারায় মোহামেডান। বাকিটা সময় আবাহনী আধিপত্য বিস্তার করে। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবাহনী এগিয়ে যায়। সতীর্থের পাসে রোমান সরকার পোস্টের সামন থেকে অসাধারণ গোল করেন। ম্যাচের ৫০ মিনিটে আবাহনী ব্যবধান আরও বাড়ায় রোমানের সুযোগ সন্ধানী গোলে। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিউজিল্যান্ডের স্ট্রাইকার চার্ল ইউরিচ লক্ষ্যভেদ করে হারের ব্যবধান কমিয়েছিলেন মোহামেডানের। ম্যাচ শেষের সাইরেন বাঁজার সঙ্গে সঙ্গে মোহামেডানের রিভিউর আবেদন নিয়ে ঘটা ঝামেলা শেষে আবাহনী দল মাঠ ছাড়লেও একই দাবীতে মাঠে থাকে মোহামেডান। পরে ফেডারেশনের মধ্যস্থতায় হয় রিভিউ দেখা হয়। তাতে অবশ্য মোহামেডানের ভাগ্য ফিরেনি। 

দিনের প্রথম ফাইনালে মেরিনার্স পেয়েছে সহজ জয়। একটা পর্যায়ে তারা ছয় ৬-০ তে এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর অবশ্য উষা পরপর তিন গোল শোধ করে। তবে পরে আরও দুই গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।