এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্পে যানজট বাড়ার শঙ্কা

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার অংশের র‌্যাম্প শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে উদ্বোধনের জন্য পুরোদমে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। এক্সপ্রেসওয়ের এ অংশ চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসা গাড়িগুলো সরাসরি নামতে পারবে এফডিসির ফটকের সামনের সড়কে। তবে নিত্যদিন যানজট লেগে থাকা এ সড়কে পথচারী ও অযান্ত্রিক যানের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামা বহু যান নতুন করে যুক্ত হলে যানজট পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ উদ্বোধন করা হয় গত বছর সেপ্টেম্বরে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মগবাজার হয়ে কুতুবখালী গিয়ে শেষ হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এর আগে কারওয়ান বাজার অংশের র‌্যাম্প চালু হওয়ার কথা চলতি সপ্তাহে।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, কারওয়ান বাজার অংশের র‌্যাম্প চালুর জন্য শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে পুরোদমে। পাশেই পুরো রাস্তায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা যায়। হাঁটার তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

ইদ্রিস মিয়া নামে ওই এলাকার একজন ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই রোডে তো এখনই অনেক যানজট। তার মধ্যে যদি এ র‌্যাম্প চালু হয় তাহলে সামনে আরও ভয়ানক যানজটে পড়তে হবে। চার রাস্তার মোড়ের সামনে এ র‌্যাম্প না নামিয়ে আরও আগে নামালে ভালো হতো।’

গাজীপুর পরিবহনের একটি বাসের চালকের সহকারী (হেলপার) মো. হেদায়েত। তিনি বলেন, ‘গুলিস্তান থেকে আসার পথে মগবাজার পার হয়ে হাতিরঝিল মোড় দিয়ে যেতে ৪০ মিনিটের মতো লেগে যায়। এখন এ অংশেও যদি এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প চালু হয় তাহলে তো আরও বেশি সময় লাগবে এই পথ পাড়ি দিতে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আকতার বলেন, ‘শিগগিরই কারওয়ান বাজার অংশের র‌্যাম্প চালু হবে। এ র‌্যাম্প চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ। আর ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আমাদের পরিকল্পনা চলছে। যেন এ র‌্যাম্প চালু হলে যানজট না বাড়ে। তাছাড়া এই পুরো প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণ করিডরের সড়কপথের ধারণক্ষমতা বাড়বে।’

তবে র‌্যাম্পটি চালু হলে যানজট পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এ প্রসঙ্গে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন করে যখন এ সড়কে গাড়ি নামবে তখন গাড়ির চাপ আরও বাড়বে। আর এ সড়কে পথচারী ও অযান্ত্রিক যানের কারণে তো এমনিতেই সবসময় যানজট লেগে থাকে। তাই র‌্যাম্প চালু হলে যানজট বাড়ার শঙ্কা আছে।’

এ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘যানজট কমাতে হলে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টকে আরও বেশি কৌশলী হতে হবে। আর র‌্যাম্পের সামনে মিটারিং র‌্যাম্প চালু করতে হবে। সেকেলে পদ্ধতি দিয়ে যদি যানজট নিরসনের চেষ্টা করা হয়, তাহলে হাতিরঝিল এলাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।’

থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (৫১ শতাংশ) এবং চীনা প্রতিষ্ঠান শেনডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ (৩৪ শতাংশ) ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের (১৫ শতাংশ) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যার ২৭ শতাংশ সরকার ভিজিএফ হিসেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে দেবে। প্রকল্পের মূল দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। র‌্যাম্পসহ এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।