সরকারের কাছে সবচেয়ে তুচ্ছ মানুষের জীবন: মান্না

বর্তমান সরকারের কাছে মানুষের জীবনের মতো তুচ্ছ আর কিছু নেই মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বেইলি রোড নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটি দেখে আমি খুব অবাক হয়েছি। তিনি বলেছেন, ওই ভবনে একটি অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র ছিল না। এ লোকগুলোকে এত করে বলেছি, তারা সচেতন হয়নি। মানে উনি বোঝাতে চেয়েছেন এ যে দুর্ঘটনা হলো দোষ সব মানুষের যারা মরেছে, যারা এখানে দোকান, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা করেছে।

আজ শনিবার (২ মার্চ) বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করে।

মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে নির্দয়-নিষ্ঠুর রসিকতা করছেন। উনি বলছেন, ওরা কথা শুনেনি, মানেনি, তাই মরেছে। কথার মানে কি তাই দাঁড়ায় না? এ ঘটনায় কি কোনো মামলা হতে পারে? আমি পত্রিকায় বিবৃতি দেখলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজ নিয়ে যারা ভাবেন তারা বলেছেন, এটা একটি হত্যাকাণ্ড। এটা নিমতলীর সময় বলা হয়েছিল, এফ আর টাওয়ারের সময় বলা হয়েছিল। আমাদের দেশে মানুষের জীবনের মতো তুচ্ছ আর কিছু নেই অন্তত সরকারের কাছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা শুধু ভোট ডাকাত বা চোর না, এরা ব্যাংক লুটেরা, জনগণের ওপর নির্যাতনকারী। এরা মানুষের মৃত্যুর ওপর দাঁড়িযে অট্টহাসি দিতে পারে, রসিকতা করতে পারে। এ সরকারের মানবিকতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, মানুষের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই, দেশের জন্য উন্নয়নের কোনো ভালো চিন্তা নেই। দেশটি ডুবতে বসেছে। ডলার নেই, টাকা নেই, ব্যাংক শূন্য, শেয়ার বাজার ধ্বংস। কোনো কিছু তারা ঠিক করতে পারে না।

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন নসু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, আলমগীর হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু ও মৎস্যজীবী দলের সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী।