আবার মাথায় আঘাত পেয়ে কনকাশনের শিকার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান উইল পুকোভস্কি। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে হোবার্টে ঘটে এ ঘটনা। তাসমানিয়ার পেসার রাইলি মেরেডিথের বাউন্সার গিয়ে আঘাত হানে ভিক্টোরিয়ার ২৬ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যানের হেলমেটে। ম্যাচে তার কনকাশন বদলি হিসেবে ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে নিয়েছে ভিক্টোরিয়া।
ক্রিকেট ভিক্টোরিয়া পুকোভস্কিকে নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মাঠ ছেড়ে যাওয়া পুকোভস্কি মেডিকেল স্টাফের পর্যবেক্ষণে আছেন। আরও বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’ আজ ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় বলেই মাথায় আঘাত পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুতে ভর দিয়ে ক্রিজে বসে পড়েন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক ও ভিক্টোরিয়ার ফিজিও ছুটে গিয়েছিলেন। অবশ্য একটু পর নিজে হেঁটে মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন পুকোভস্কি।
ক্যারিয়ারে এর আগেও অনেকবার কনকাশনের শিকার হন পুকোভস্কি। এ মৌসুমে দ্বিতীয় ও পুরো ক্যারিয়ারে অন্তত ১২তম বার কনকাশনে পড়লেন তিনি। যার সবশেষটি এ মৌসুমেই জানুয়ারিতে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সময়। ওই ম্যাচে প্রাথমিক পরিচর্যার পর ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও পরে ‘বিলম্বিত’ কনকাশন ধরা পড়ে। ফলে শেফিল্ড শিল্ডের পরের রাউন্ডের ম্যাচ থেকে ছিটকে যান তিনি।
ফিরে আসার পর নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে প্রায় তিন বছর পর সেঞ্চুরি হাঁকান পুকোভস্কি। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে পুকোভস্কির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওই এক ম্যাচই খেলেন তিনি। ২০২২ সালে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ক্রিকেট থেকে বিরতিতে চলে যান। এই সেঞ্চুরির পর মনে করা হচ্ছিল- এবার বুঝি ক্যারিয়ারের গ্রাফ আবার ওপরের দিকে উঠতে যাচ্ছে তার। সেই সময়েই আবার কনকাশনের শিকার হলেন ২০১৯ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ‘ব্র্যাডম্যান ইয়ং ক্রিকেটার অফ দ্যা ইয়ার’হওয়া এ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের।
একদম বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সময়কাল থেকে হিসাব করলে এই ম্যাচের আগে অন্তত ১১ বার কনকাশনে পড়েছেন তিনি। এই সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে শোনা যায়। স্কুলে থাকাকালীন ফুটবল খেলতে গিয়ে সতীর্থের হাঁটুর সঙ্গে মাথার সংঘর্ষ হয়ে প্রথম কনকাশনের শিকার হন পুকোভস্কি। এছাড়াও নেটে অনুশীলনের সময় অন্য ব্যাটসম্যানের খেলা শটে বল তার মাথায় আঘাত হানে। একবার নিজের বাসায় দরজার হাতলের সঙ্গে মাথায় ধাক্কা খান পুকোভস্কি।
এ বছরের শুরুতে ভিক স্টেট ক্রিকেট পডকাস্টে পুকোভস্কি বলেছিলেন, ‘যখন ১৫ বা ১৬ বছর বয়স, তখন প্রথম কনকাশন হয়। আমার মনে হয় আমার মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারগুলো সেখান থেকেই শুরু। আমার কনকাশনের অনেক উপসর্গ আছে প্রায় সাত বা আট বছর ধরে। এগুলো আসলে কখনোই সারেনি।’
তবে শারীরিক আঘাতের চেয়েও মানসিক ব্যাপার নিয়ে তার দুশ্চিন্তা বেশি, ‘দীর্ঘ মেয়াদে আমার শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় পাই না। তবে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি বেশি কঠিন।’ এরপর তিনি বলেছিলেন, ‘প্রফেশনাল ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার ইচ্ছাটি কখনোই মরে যায়নি আমার। এই ইচ্ছা পূরণের পথে অনেক বড় বাধা এসেছে। তবে আমি বিশ্বাস করি অবশেষে এর সমাধান খুঁজে পেয়েছি আমি।’
তীব্র ইচ্ছাশক্তির বদৌলতে মাঠের ক্রিকেটে দাপট দেখিয়ে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আবারও দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন পুকোভস্কি।