দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে ‘আর্টিফায়িং দ্য সোল’ শিরোনামে দলীয় চিত্রপ্রদর্শনীয় মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘ভূমি গ্যালারি’। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ঢাকার লালমাটিয়ার ব্লক ‘ডি’ ৬/৪ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ব সাহিত্যে কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এ সময় বিশেষ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম ও চিত্রশিল্পী বীরেন সোম ও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান সাইফুর রহমান লেলিন । এছাড়াও দেশের প্রতিথযশা ও তরুণ চিত্রশিল্পী, চিত্র সমালোচক ও শিল্পীপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় চিত্র প্রদর্শনী প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী ১১ই মার্চ পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।
দলীয় চিত্রপ্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, হামিদুজ্জামান খান, আব্দুর শাকুর শাহ, বীরেন সোম, আবুল বারক আলভী, অলকেশ ঘোষ, মনসুর উল করিম, তরুণ ঘোষ, নাইমা হক, মোহাম্মদ ইউনুস, নাসিম আহমেদ নাদভী, জামাল আহমেদ, রেজাউন নবী, রণজিৎ দাস, সমর মজুমদার, আহমেদ সামসুদ্দোহা, আইভি জামান, শিশির ভট্টাচার্য, শেখ আফজাল, কনক চাঁপা চাকমা ও মোহাম্মদ ইকবাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, যে শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে কিন্তু হতে পারেনি তার হাত ধরে আজ ‘ভূমি গ্যালারি’ যাত্রা শুরু হলো। কারণ তিনি শিল্পী সত্তাকে মনেপ্রাণে লালন করেন। এসব স্বপ্ন শুধুমাত্র শিল্পীরাই ধারণ করতে পারেন। প্রত্যেকটি চিত্রকর্ম ভিন্নতর সময়ের আবহকে ফুটিয়ে তুলে। শিল্পীরা সবসময় মনের রঙ মিশিয়ে তা বাস্তবিক রূপদান করেন।
এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা লেলিন আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে চিত্রশিল্পীদের আস্থাভাজন হয়েছেন তিনি। তার প্রমাণ আজকের দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী। এতে নামকরা চিত্রশিল্পীদের ছবিই বলে দিচ্ছে সংগঠনটি অনেকদূর এগিয়ে যাবে।’
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব গ্যালারি টিকে রাখা অনেক চ্যালেঞ্জিং। তা সত্ত্বেও শিল্পকে ভালোবাসে সাহসী এই উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম মানুষের সামনে উপস্থাপন করায় এসব সংগঠন। ‘ভূমি গ্যালারি’ পাশে শিল্পীরা আছে ভবিষৎতে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভূমি গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান সাইফুর রহমান লেলিন বলেন, দেশের চিত্রকলার অতীত ও বর্তমানের সঙ্গে বৈশ্বিক চিত্রকলার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ চারুশিল্পের যাত্রাকে আরও বেগবান করতে চাই। ভূমি গ্যালারি নিজ উদ্যেগে প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপাশি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিল্পীরা তাদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা তরুণ শিল্পীদের জন্য বরেণ্য শিল্পীদের দিয়ে ব্যবহারিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এছাড়াও প্রবীণ, তরুণ ও নবীন শিল্পীদের নিয়ে ভূমি ঋতুভিত্তিক নানা ধরনের নিরীক্ষাধর্মী আউটডোর কর্মশালা, আর্ট ক্যাম্প এবং প্রর্দশনীর আয়োজনও থাকবে। খুব শীঘ্রই 'ভূমি পাঠশালা' নামে একটি স্কুল চালু করা হবে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল চিত্রশিল্পীরা আমার গ্যালারিতে বিনা অর্থে চিত্র প্রদর্শনীর সুযোগ পাবে’।