বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান শিল্পী সফিউদ্দীন। তিনি সাত দশকের বেশি সময় ধরে শিল্পচর্চায় দেশের চারুকলার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার শিল্পকর্মে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
সফিউদ্দীন আহমেদ ১৯২২ সালের ২৩ জুন কলকাতার ভবানীপুরের নন্দন রোডে পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ মতিনউদ্দিন, মায়ের নাম বিবি জমিলা খাতুন। কলকাতার পদ্মপুকুর হাই স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পর ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থাতেই সাঁওতাল পরগনার দুমকা অঞ্চলে আঁকা চিত্রমালা শিল্পী হিসেবে তাকে খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৪২ সালে তিনি চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সমাপ্ত করেন এবং জলরঙ ও তেলরঙের পাশাপাশি কাঠখোদাই মাধ্যমটি গভীরভাবে রপ্ত করেন। সেখান থেকেই ১৯৪৬ সালে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের এই ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী ১৯৪৮ সালে ঢাকায় সরকারি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৮ সালে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে এচিং ও এনগ্রেভিংয়ে সম্মানের সঙ্গে ডিপ্লোমা লাভ করেন। তিনি দেশে-বিদেশে বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নেন এবং দেশে-বিদেশের বহু খ্যাতনামা জাদুঘর ও সংগ্রহশালায় তার শিল্পকর্ম রয়েছে।
১৯৪৫ সালে কলকাতা একাডেমি অব ফাইন আর্টসের ‘একাডেমি প্রেসিডেন্ট পদক’, ১৯৪৭ সালে ভারতের ‘দ্বারভাঙ্গা মহারাজার স্বর্ণপদক’ এবং ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘প্রেসিডেন্ট পদক’ লাভ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে চারুকলায় অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন।
বাংলাদেশের ছাপচিত্রকলার তিনিই শিল্পগুরু। বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প-আন্দোলনের এই পুরোধা শিল্পী ২০১২ সালের ২০ মে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন সমাধিসৌধে তাকে সমাহিত করা হয়।
