শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয়ের খবর এবং অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া লিখে পাঠিয়ে দেবার আগেই মুঠোফোনে 'টুং' শব্দ করে ক্ষুদেবার্তার উপস্থিতি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বাংলাদেশ দলের সদস্যরা ঐচ্ছিক অনুশীলনে আসবেন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
সাধারণত দিনরাতের ম্যাচ হলে পরদিন অনুশীলন করে না কোন দল। ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকলেও বাংলাদেশের যে ক্রিকেটারটিকে সবসময় মাঠে পাওয়া যায় তার নাম মুশফিকুর রহিম, কিন্তু তিনি তো টি-টোয়েন্টি দলে নেই! তাহলে ঐচ্ছিক অনুশীলনে কে আসবেন, কাজ শেষে হোটেলে ফেরার পথে সহকর্মীদের সঙ্গে এই নিয়ে কিছুটা রসিকতাও চলল। বৃহস্পতিবার দুপুরে রোদ মাথায় স্টেডিয়ামে গিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ, ঐচ্ছিক অনুশীলনে ঠিকই হাজির মুশফিকুর রহিম। ব্যাট করছেন নেটে। জানা গেল, ওয়ানডে দলের তিন ক্রিকেটার; মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও মুশফিকুর রহিম টি-টোয়েন্টি দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন সিলেটে। ৯ মার্চ সিলেটে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত তারা দলের সঙ্গেই থাকবেন এবং অনুশীলন করবেন, সিরিজ শেষে ওয়ানডে দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে ধরবেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে চার্টার্ড ফ্লাইট।
প্রধান কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে, সহকারী কোচ নিক পোথাস এবং ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প মিলে অনেকটা সময় জুড়ে ব্যাটিং দেখেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম আর তানজিদ হাসান তামিমের। ম্যাচে খেলা পেস বোলাররা কেউই আসেননি, এসেছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। সঙ্গে স্থানীয় নেট বোলার এবং স্পিনারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম ও শেখ মেহেদি হাসান মিলেই বল করেছেন। ব্যাটসম্যানরা প্রত্যেকেই লম্বা সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন। নেটে এনামুল বেশ কিছুক্ষণ ব্যাটিং করার পর রানিং আর ক্যাচিং প্র্যাকটিসও করেছেন, অন্যদিকে দলে থাকলেও একাদশে এখনো জায়গা না পাওয়া নাঈম শেখ অনুশীলনের পর আশ্রয় নিয়েছেন ছাতার নিচে। পাশে সৌম্য সরকার। দুজনেই বামহাতে ব্যাটিং করেন, এটাই একটা মাত্র মিল দুজনের, বাকি সবই অমিল। সৌম্য ক্যারিয়ারের খারাপ সময়েও যেভাবে একের পর এক সুযোগ পেয়েছেন, তার সিকিভাগও নাঈম পাননি। নাঈম হয়তো বুঝে গেছেন, সিরিজের শেষ ম্যাচেও একাদশে তার সুযোগ নেই বরং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই আবাহনীর হয়ে মাঠে নামতে হবে ১১ মার্চ থেকে।
অনুশীলনে মাঠে দেখা গেল মনোবিদ ফিল জোন্সকেও। লম্বা সময়ের বিপিএল শেষে আন্তর্জাতিক সিরিজের দীর্ঘ সূচিতেও মনকে কিভাবে চাঙ্গা রাখা যায়, সেই উপায়ই কি বাতলে দেবেন? পর্যটন শহর সিলেটে বেড়াতে এসে অনেকেই মুক্তি চান নাগরিক একঘেয়েমি থেকে। সিলেটের চা বাগানের সবুজ, গ্র্যান্ড সিলেটের জানালা দিয়ে তাকালে মেঘালয়ের পাহাড়...এসব কি পারবে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে সতেজ রাখতে। অবশ্য মানসিকভাবে সতেজ রাখার সবচেয়ে বড় ওষুধ হচ্ছে সাফল্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বুধবার রাতে যেটা পেয়েছে বাংলাদেশ।
মুশফিক প্রসঙ্গে ফেরা যাক। নেটে অনুশীলন শেষে সেন্টার উইকেটে অনেকক্ষণ রেঞ্জ হিটিং প্র্যাকটিস করলেন, বেশ বড় বড় কিছু ছয়ও মারলেন। স্লগ সুইপ খেললেন। মুশফিক জানেন এই মাঠে হবে না ওয়ানডে সিরিজ, তাকেও মাঠে নামতে হবে না দিন দুয়েকের ভেতর। তবুও যে সর্বোচ্চ পরিশ্রমটা নিংড়ে দিলেন অনুশীলনে, সেটাই মুশফিককে করেছে অন্য সবার চেয়ে আলাদা। মুশফিক জানেন, দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে তার চাইতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কেউ থাকতে পারেন, কেউ বা আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ। এক মৌসুম বিপিএল না খেললে সংসার চলবে না, এই কথা বলা মুশফিক জানেন বাকি জীবনটা কিছু না করে হেসেখেলে কাটালেও কোন কোন সতীর্থের সম্পদের পাহাড় শেষ হবে না। তবে একটা জায়গায় মুশফিক সবার উপরে, তিনি জানেন তার চেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার বাংলাদেশ দলে আর একজনও নেই।