ভারত-ইংল্যান্ডের পঞ্চম টেস্টটি হচ্ছে ধর্মশালায়। পাহাড়ের কোলঘেষে নয়নজুড়ানো হিমাচলের স্টেডিয়ামটির পিচে প্রথম দিনেই যে কীর্তি গড়েছেন কুলদীপ যাদব তা দুর্দান্ত। ইংল্যান্ডকে ২১৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার দিন এ চায়নাম্যান বোলার শিকার করেছেন ৫ উইকেট। ১২ টেস্টেই ১০০ বছরের ইতিহাসে গড়েছেন দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
তবে সবচেয়ে সেরা হয়েছে যা, সেটি হলো জ্যাক ক্রলির উইকেটটি। তথ্য বলছে, কুলদীপের করা ডেলিভারিটি ১০.৯ ডিগ্রি ঘুরেছে। সাম্প্রতিক সময় টেস্টে কোনও ব্যাটসম্যানকে আউট করা ডেলিভারির মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
২০২১ সালে পাকিস্তানের ব্যাটার ইমাম-উল-হককে যে বলে আউট করেছিলেন ইংল্যান্ডের ম্যাট পার্কিনসন, সেই বলটা ১২.১ ডিগ্রি ঘুরেছিল। যা একদিনের ক্রিকেটে ইতিহাস তৈরি করেছিল। বোল্ড হওয়ার ক্ষেত্রে সেটিই ছিল সর্বাধিক ঘোরা বল। টেস্টে এবার সে কীর্তি গড়লেন কুলদীপ যাদব।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কুলদীপ নিজের সাফল্যের কারণ হিসেবে বলেন, ‘উইকেটের কন্ডিশন নয় আমি নির্ভর করেছি আমার বোলিং স্কিলের ওপর। আপনি যখন ভারতের মাটিতে স্পিন বোলিং করবেন তখন বলের লেন্থ ও পেস ভ্যারিয়েশনে ধারাবাহিক থাকতে হবে। আমি সেই কাজটাই করি এবং তাতে আনন্দ পাই।’
কুলদীপের ৫ উইকেটের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন শততম টেস্ট খেলতে নামা রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট। ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষে মাঠ ছাড়ার সময় কুলদীপের হাতে বল গুঁজে দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিতে একপ্রকার বাধ্য করেন অশ্বিন। অশ্বিনের এই বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করেন কুলদীপ।
বলেন, ‘অশ্বিন ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট খেলছেন। এই ম্যাচটি তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। আমি চেয়েছিলাম তিনিই বলটি রাখবেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়ে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু তিনি তা হতে দেননি। উনি বলেছেন উনার ক্যারিয়ারে ৩৫টি ফাইফার রয়েছে। এই বলটির যোগ্য দাবিদার আমি। এই বলে তিনি আমাকে এগিয়ে দেন। এমন একজন উচুমনের খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
ইনিংসে ৭২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন কুলদীপ। ২০১৭ সালে এই মাঠেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার। সেই থেকে ১২টি টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি কুলদীপের ৪র্থ ৫ উইকেট শিকারের ঘটনা। সঙ্গে ১৮৭১ বলে টেস্টে পঞ্চাশ উইকেট শিকার করে ১০০ বছরের মধ্যে দ্রুততম উইকেটের ফিফটি করেন কুলদীপ।