ভারত-পাকিস্তান, আগের জৌলুস ফুরিয়ে গেলেও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ এখনো সমগ্র ক্রিকেটবিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং আকাঙ্খিত ঘটনা। ক্রিকেট মাঠে ২১০ বার নিজেদের মুখোমুখি হয়েছে দুটি দেশ। তবে ফাইনালে! এমন উপলক্ষ্য খুবই বিরল। গত ৪০ বছরে পাঁচ বা ততোধিক দলের অংশগ্রহণে হওয়া টুর্নামেন্টের ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মাত্র পাঁচবার। আজকের প্রথম এশিয়া কাপ ফাইনালে নামার আগে, ফিরে দেখা যাক সেই ঐতিহাসিক লড়াইগুলো।
১৯৮৫, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব ক্রিকেট, মেলবোর্ন
সেই সময়ের ৭টি দেশকে নিয়ে একবারই মাঠে গড়ায় এই টুর্নামেন্ট। সেমি পেরিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুদেশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড আর উপস্থিত ৫০ হাজার দর্শক মিলে তৈরি করেছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ফাইনাল খেলার সেরা উপলক্ষ্য। কিন্তু ওই ফাইনালটি ছিল বড্ড একপেশে। কপিল ও লক্ষণ মিলে ৬ উইকেট শিকারের দিনে পাকিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ৯ উইকেটে ১৭৬ রানে। ভারতের দুই ওপেনার রবি শাস্ত্রী ও ক্রিস শ্রিকান্থের ১০৩ রানের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। ভারত জেতে ৮ উইকেটে।
১৯৮৬, অস্ট্রাল-এশিয়া কাপ, শারজা
এক বছর বাদেই আরেকবার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। তিন এশীয় ও দুই তাসমানীয় প্রতিবেশি নিয়ে ওই বছর মাঠে গড়ায় অস্ট্রাল-এশিয়া কাপ। শারজায় ১৮ এপ্রিলের ওই ফাইনালে আগের হারের প্রতিশোধ নেয় পাকিস্তান। এবার সুনিল গাভাস্কারের ৯২, শ্রিকান্থের ৫০ আর দিলিপ ভেংসারকারের ৫০ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে ২৪৫ রান করে ভারত। জবাবে শেষ বলে চার রানের প্রয়োজনে চেতন শর্মার বলে ছক্কা হাঁকিয়ে এক উইকেটে পাকিস্তানকে জেতান জাভেদ মিয়াদাদ। নায়কোচিত সেঞ্চুরির দিনে খেলেছিলেন ১১৪ বলে ১১৬ রানের ইনিংস।
১৯৯৪, অস্ট্রাল-এশিয়া কাপ, শারজা
একই টু্র্নামেন্টটির শেষ আসরে ফের মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। সাঈদ আনোয়ারদের কারণে পাকিস্তানের ব্যাটিং তখন আরেকটু শক্তিশালী। আমির সোহেল ও বাসিত আলির ফিফটি ও সাঈদের ৪৭ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ২৫০ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যর্থ হন ভারতের টপঅর্ডাররা। বিনোদ কাম্বলি আর অতুল বেদাদের ৮০ রানের জুটিতে গড়া প্রতিরোধও কার্যকর হয়নি সেদিন। ওয়াসিম আকরাম, সালিম মালিক ও আমির সোহেলের জোড়া শিকারে বিপর্যস্ত হতে হয় ভারতকে। শচিনেরটাসহ দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা হন সোহেল।
২০০৭, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, জোহানেসবার্গ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরের আবহটা আরও জমে ওঠে যখন ফাইনালে ওঠে এ দুই দেশ। গৌতম গম্ভিরের ৫৪ বলে ৭৫ এবং কুড়ি বছরের রোহিত শর্মার ১৬ বলে ৩০ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৫৭ রান করে ভারত। জবাবে ১৩ বলে ৩৩ রান করে ফেলা ইমরান নাজির রান আউট হলে রুদ্রপ্রতাপ সিং ও ইরফান পাঠান মিলে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে কোনঠাসা করে দেয় পাকিস্তান। কিন্তু মিসবাহ-উল-হক নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের দিকে। নাটকীয় শেষ ওভারে প্রথম বলে ছক্কার পরও জোগিন্দর সিং মিসবাহকে ফিরিয়ে ৫ রানের জয়ে বিশ্বকাপ এনে দেন ভারতকে।
২০১৭, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, লন্ডন
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এই আসরের গ্রুপ পর্বেও ভারতের কাছে হেরেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ফাইনালে পাকিস্তান উপহার দেয় নিখুঁত এক ম্যাচ। ফখর জামানের ১১৪ রানে ভর করে তারা তোলে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান। জবাবে মোহাম্মদ আমির আগুনঝরা স্পেলে রোহিত, কোহলি ও ধাওয়ানকে দ্রুত ফেরান। হার্দিক পান্ডিয়ার ৪৩ বলে ৭৬ রান সত্ত্বেও ভারত গুটিয়ে যায় ১৫৮ রানে। হাসান আলি ও শাদাব খানও জ্বলে ওঠেন। পাকিস্তান জেতে ১৮০ রানের ব্যবধানে। যা আইসিসি টুর্নামেন্ট ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড।
‘ওয়ানডে আসতে আসতে হয়তো সবাই ভুলেই গেছে আমি ১১০০ রান করেছি’
বাংলাদেশ যুব দলের সাবেক কোচ এখন ভারতীয় বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট