মেজর লিগ সকারের পাশাপাশি মৌসুমের দ্বিতীয় প্রতিযোগিতা কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ম্যাচে কাল ভোরে মাঠে নামবেন মেসি-সুয়ারেজরা। প্রতিপক্ষ ন্যাশভিল। সকাল আটটায় ন্যাশভিলের মাঠ জিওডিস পার্ক স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ উত্তর আমেরিকার মহাদেশীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ যা ইউরোপের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সমতুল্য।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত মৌসুমের আগ পর্যন্ত কোনো সাফল্য ছিল না মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির। ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি এসে যেদিন থেকে ছুঁইয়ে দেন জাদুর কাঠি সেই থেকে ভাগ্যের বদল হয় মায়ামির। টানা সাত ম্যাচ জিতে লিগস কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ক্লাবটি। ফাইনালে টাইব্রেকারের মাধ্যমে ন্যাশভিলকে হারিয়ে লিগস কাপ শিরোপা ঘরে তোলে মায়ামি।
লিগস কাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবটি প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে সরাসরি রাউন্ড অফ সিক্সটিনে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়িয়েছে ২০২৪ মৌসুমের আসর। রাউন্ড ওয়ান পর্ব পেরিয়ে মেসিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে ন্যাশভিল।
রাউন্ড ওয়ানে ডমিনিকান রিপাবলিকের দল মোকাকে প্রথম লেগে ৩-০ ও দ্বিতীয় লেগে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ন্যাশভিল। তবে এমএলএসে শুরুর দুই ম্যাচেই নিউইয়র্ক রেডবুলস ও কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে ড্র করেছে গ্যারি স্মিথের দলটি।
জিওদিস পার্ক থেকেই লিগস কাপের শিরোপা জিতেছিলেন মেসি। সেখানেই আরও একটি প্রতিযোগিতার শিরোপা লড়াই অভিযাত্রা শুরু করবেন মেসি। আগের ম্যাচেই ফ্লোরিডা ডার্বিতে শক্তিশালী অরল্যান্ডো সিটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে মায়ামি। তবে মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনো বলেছেন, ‘মাঠে বল গড়ানো শুরুর আগে কেউ ফেভারিট- এটি আমি মানি না। একমাত্র খেলার মাধ্যমেই প্রমাণ করতে পারবো আমরা ফেভারিট কি না।’
ফ্লুতে আক্রান্ত জর্দি আলবাকে ম্যাচে পাবেন কি না সন্দিহান হলেও মার্তিনো জানিয়েছেন এ ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হতে যাচ্ছে আলবিসেলিস্তে তরুণ ফেডেরিকো রেডন্ডোর।
ন্যাশভিলের স্টেডিয়াম জিওডিস পার্কের একটি অংশে মায়ামির কোন সমর্থক দলের জার্সি পরে বসতে পারবেন না। এমন নির্দেশনাই জারি করেছে ন্যাশভিল। এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জার্সি বা তাদের রং (পিঙ্ক) নিয়ে জিওডিস পার্কের ফ্যান জোন সেকশন (১০৬-১১০) কাউকে থাকতে দেওয়া হবে না। এই জায়গায় প্রতিপক্ষ দলের (মায়ামি) জার্সি পরে থাকলে তাকে জরিমানা দিতে হবে। এমনটি স্টেডিয়াম থেকে বেরও করে দেওয়া হতে পারে।'
ন্যাশভিল নির্দিষ্ট একটি সেকশনে এই নির্দেশনা জারি করেছে। তারা বলছে মাঠে যেন দুই দলের সমর্থকদেরই বোঝা যায় তাই এমন সিদ্ধান্ত। তবে ধারণা করা হচ্ছে নিজেদের ঘরের মাঠে সমর্থক দিয়ে বাড়তি সুবিধা আদায় করতে চাইছে ন্যাশভিল। মায়ামিতে মেসি-সুয়ারেজ-আলবারা খেলার কারণে প্রতিপক্ষের মাঠেও ক্লাবটিকে ব্যাপক সমর্থন পেতে দেখা গেছে।