ঋণ অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা কেলেঙ্কারিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের লেনদেন ফের শুরু হতে যাচ্ছে। অবসায়নের মুখ থেকে ফিরে আসা দুর্বল আর্থিক ভিত্তির এ কোম্পানিটির লেনদেন প্রায় পাঁচ বছর পর শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী রবিবার থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন শুরু হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ সভায় পিপলস লিজিংয়ের লেনদেন চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানিটির লেনদেন ‘জেড’ ক্যাটাগরির অধীনে শুরু হবে। নানা সংকটে থাকা পিপলস লিজিংয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।
অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কার্যক্রম ২০১৯ সালে বন্ধের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন দেয়। পিপলস লিজিংয়ে ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটে দুরবস্থায় রয়েছে। তারা আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছিল না। কোম্পানিটির দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে কারসাজির শঙ্কায় কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডিএসইর পর্ষদ। ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ১০৫ দফায় কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখে ডিএসই।
২০১৯, ২০ ও ২১ সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএলএফএসএল। তথ্যানুসারে, ২০২১ হিসাব বছরে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১১৫ টাকা ৩৪ পয়সায়। ২০২০ হিসাব বছরে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ২২ টাকা ৩২ পয়সা। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১০১ টাকা ২৪ পয়সায়। ২০১৯ হিসাব বছরে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ১৯ টাকা ৭৬ পয়সা।
২০০৫ সালে তালিকাভুক্ত পিপলস লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।