ব্যতিক্রমী আনন্দে মাতলো জাতীয় নারী ক্রীকেট দলের সদস্যরা। বিশ্ব নারী দিবসে শুক্রবার (৮ মার্চ) তারা দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছে কিশোরী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। এ সময় ক্রিকেট খেলেছে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের সঙ্গে। নির্মল আনন্দ, উল্লাসে জাতীয় ক্রিকেট দলের নারী সদস্যরা যেন ফিরে গিয়েছিল তাদের সেই কিশোরী বেলায়।
ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর সাড়ে তিনটা। পড়ন্ত দুপুর। রোদের তেজও কম। খুলনা সরকারি করোনেশন স্কুলের গেটে ড্রাম নিয়ে দাঁড়িয়েছিল কিশোরীদের ক্ষুদে বাদক দল। আর স্কুলের অন্যগেট দিয়ে আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। হটাৎ বাদক দলের বাদ্যের শব্দে থমকে থাকা স্বাভাবিক সময়টা যেন বদলে গেল। স্কুলের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করলেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার পেছনে ছিলেন ফাহিমা, নাহিদা, মারুফাসহ নারী ক্রিকেটে দলের পুরো টিম। ছিলেন অফিসিয়াল, নারী দলের প্রধান নির্বাচকসহ, ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা।
দুই দলে ভাগ হয়ে ৪ ওভারের ম্যাচ খেলেন কিশোরী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীা। খেলা শেষে অটোগ্রাফ, সেলফি আর হাসি ঠাট্টায় করোনেশেন স্কুল প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলন মেলায়।
এরপর করোনেশন স্কুলের মাঠে গাছের ছায়ায় অল্প একটু বিশ্রাম। তারপর ছাত্রীদের উদ্দেশে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের কাপ্তান নিগার সুলতানা জ্যোতি বললেন, প্রতিদিনই নারীদের দিন। এখন আর বিশেষ দিবসে নারীর অধিকার, স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ নেই। নারী আজ স্বাবলম্বী, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, খোলোয়াড়। ক্রীড়াঙ্গনে নারীরা আজ পিছিয়ে নেই। নারী খেলোয়াড়রা বিশ্বের বুকে প্রতিনিয়ত অর্জনের মাধ্যমে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। দু হাতে ঊর্ধ্বে তুলে ধরছে জাতীয় পতাকা।
বাংলাদেশ নারী ক্রীকেট দলের অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের জন্য অন্যতম নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে ক্রিকেটাঙ্গণে। তাই যে কেউ এখন চাইলে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
নারী ক্রীকেট দলের চিফ সিলেক্টর হাবিবুল বাশার বলেন, জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের থেকে নারী ক্রিকেট দলের অর্জন অনেক বেশি। শিরোপা জেতার দৌড়েও তারা এগিয়ে আছে। এভাবে তাদের অদম্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে পুরুষ ক্রিকেট দলের আগেই হয়তো বিশ্বকাপ জিতে নারী ক্রিকেট দল দেশের নাম উজ্বল করবে।