মোহামেডানের শুভ সূচনার দিন ভিক্টোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ এসসি

দেশের হকিতে সাফল্যে মোড়া দল মোহামেডান জয় দিয়ে শুরু করেছে প্রিমিয়ার লিগ। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারায় সাদা-কালোরা। প্রথম খেলার ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ৬-৪ গোলে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এসসি।

মোহামেডানের হয়ে ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আমিরুল ইসলাম গোলের খাতা খোলেন। ৩৯ মিনিটে দ্বীন ইসলাম ইমনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৪৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল দেন রাসেল মাহমুদ জিমি। শেষ গোলটি করেন ডিফেন্ডার মনোজ বাবু।

বাংলাদেশ এসসির ভারতীয় রিক্রট প্রিন্স কুমার হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া রাকিব, দেবাশীষ রায় ও গুরপ্রীত সিং একটি করে গোল করেন। ভিক্টোরিয়ার হয়ে আব্দুল আল আবিদ নাহিয়ান দুটি এবং মোহাম্মদ হাসান ও শহিদুল ইসলাম একটি করে গোল করেন।

খেলার প্রথম দুই কোয়ার্টারে ৩-১ গোল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভিক্টোরিয়া। তৃতীয় এবং চতুর্থ কোয়ার্টারে খেই হারিয়ে ফেলে দলটি। আজ খেলার অষ্টম মিনিটেই প্রিন্স কুমারের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ এসসি (১-০)। ১৬ মিনিটে আবিদ নাহিয়ানে পেনাল্টি কর্নারে সমতায় ফেরে ভিক্টোরিয়া এসসি (১-১)। ২১ মিনিটে শহিদুলের ফিল্ড গোলে অগ্রগামিতা ভিক্টোরিয়ার (১-২)। ২৫ মিনিটে হাসানের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ১-৩ গোলে এগিয়ে নেয় ভিক্টোরিয়া।

৩৪ মিনিটে ফিল্ড গোল থেকে গোল করে ব্যবধান ২-৩ নামিয়ে আনেন বাংলাদেশ এসসির প্রিন্স কুমার (২-৩)। ৩৬ মিনিটে রাকিবের ফিল্ড গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ এসসি (৩-৩)। তৃতীয় কোয়ার্টার ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন বাংলাদেশ এসসির ভারতীয় প্রিন্স কুমার (৪-৩)। এই গোলে হ্যাটট্রিকপূর্ণ হয় প্রিন্সের।

ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে আরো তিন গোল দেখে মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দুদলের সমর্থকরা। এর মধ্যে বাংলাদেশ এসসির হয়ে ৪৯ মিনিটে দেবাশীষ ফিল্ড গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-৩ গোলের। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশ এসসির আরেক ভারতীয় গুরপ্রীত সিং পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৬-৩ এ নিয়ে যান। ৫৬ মিনিটে ভিক্টোরিয়ার হয়ে পেনাল্টি কর্নার থেকে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন আল আবিদ নাহিয়ান।

মোহামেডানের ম্যাচে খেলার প্রথম দুই কোয়ার্টার ছিল গোলশূন্য। আজাদের মতো অনভিজ্ঞ একটি দলের বিপক্ষে গোল পেতে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আমিরুল ইসলাম গোল করলে স্বস্তি ফেরে সাদা-কালো শিবিরে।

৩৯ মিনিটে দ্বীন ইসলাম ইমনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। খেলার ৪৩ মিনিটে রাসেল মাহমুদ জিমি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করলে ব্যবধান ৩-০ তে দাঁড়ায়। এরপর খেলার চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টার গিয়ে আরো এক গোল মোহামেডানের। ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন ডিফেন্ডার মনোজ বাবু।