বেইলি রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুনের পর রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এখন অভিযান চালাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বা রেস্টুরেন্ট পেলে সেগুলো সিলগালাও করে দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে অগ্নিঝুঁকিতে থাকা এসব ভবনের কী হবে? সেগুলো কি ভেঙে ফেলতে হবে? নাকি ভেঙে না ফেলেও ভবনগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব? এমন নানা প্রশ্ন ঘিরে এখন আলোচনা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের হিসেব মতে, ঢাকায় অগ্নিঝুঁকিতে আছে এরকম ভবনের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ টিরও বেশি। তবে সংখ্যাটা বাস্তবে আরো বেশি হবে কারণ খোদ ফায়ার সার্ভিস বলছে ঢাকার সবগুলো ভবন তাদের জরিপে আসেনি। কিন্তু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হলেই সেটি ভাঙতে হবে এমনটা নয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, যেসব বহুতল ভবন আগুনের ঝুঁকিতে আছে সেগুলোতে কিছু পরিবর্তন এনেই ঝুঁকিমুক্ত করা যায়।
তিনি বলেন, “এখানে মূল বিষয়টা হচ্ছে যে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা বাড়াতে হবে। আপনি যে ভবনেই থাকেন, সেখানে সহজে বের হওয়ার রাস্তা আছে কি না সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বহুতল ভবনে একাধিক সিঁড়ি রাখতে হয়। সেটা যদি না থাকে তখন সিড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক সময় ভবনের বাইরেও আলাদা করে সিঁড়ি যুক্ত করা যায়। এছাড়া ফায়ার ডোর দিতে হবে, যেন আগুনটা সিঁড়িতে চলে আসতে না পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, সিঁড়ি এবং ছাদ দুটোকেই ফাঁকা রাখতে হবে এবং ছাদ থেকে যেন সহজে উদ্ধার করা যায় সেরকম ব্যবস্থা থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই ফায়ার লিফট আছে যেটা আগুন কিংবা বিদ্যুৎহীন অবস্থাতেই চলে। সেটা ভবনে যুক্ত করা যাবে। যেসব ভবনে এগুলো করার মতো অবস্থা নেই, যাচাই করে সেগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে রাজউককে।
আবাসিক ভবন থেকে রেস্টুরেন্ট সরাতে হবে
এখন অনেক আবাসিক ভবনে রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক ভবনেও রেস্টুরেন্ট হচ্ছে। যদিও বাণিজ্যিক হলেও ভবনের ডিজাইন এবং অনুমোদন মূলত অফিস বা অন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য করা হয়ে থাকে, রেস্টুরেন্টের জন্য নয়।
ফলে এসব ভবন থেকে রেস্টুরেন্টগুলো সরিয়ে নিলেই ঝুঁকি বহুগুণে কমে যাবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান।
তবে তিনি সব ধরনের ভবনেই অবস্থা এবং ব্যবহার বুঝে বিভিন্ন ধরনের অগ্নি নির্বাপন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথাও বলছেন।
আলী আহমেদ খান বলেন, “আগুনের একটা বড় উৎস বৈদ্যুতিক লাইন এবং সংযোগ। এক্ষেত্রে মানসম্মত ক্যাবল লাগাতে হবে। পুরনো লাইন নতুন করতে হবে। লাইনগুলো সিল করে দিতে হবে যেন লাইন দিয়ে আগুন এক ঘর থেকে আরেক ঘরে না যেতে পারে।”
তিনি বলেন, “গ্যাসের লাইন চেক করতে হবে নিয়মিত। সাধারণ রান্নাঘর আর রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর, গ্যাস সংযোগ, লোড ক্যাপাসিটি ইতাদি ভিন্ন হয়। সেগুলো ঠিক না থাকলে ঠিক করতে হবে। তাহলে এমনিতে ঝুঁকি কমবে। এছাড়া স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ নানারকম যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো ব্যবহার করতে এবং ট্রেনিং থাকতে হবে।”