রাজনীতিতে দলবদলের ঘটনা এখন ইনস্ট্যান্ট নুডল্‌স এর মতো: পরমব্রত

কিছুদিন পরেই পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন। টলিপাড়ার অন্দরেও তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। কারা কোন দলে যোগ দিতে পারেন বা কারা টিকিট পাবেন, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। কিন্তু রাজনীতি থেকে এখনও দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

এই মুহূর্তে শাসকদলের তিন তারকা সাংসদ দেব, মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহানকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। আবার, ঘাটাল কেন্দ্রে দেবের বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন বিজেপির তারকা সাংসদ হিরণ। পরমব্রত বিষয়গুলিকে কীভাবে দেখেন? অভিনেতা বললেন, ‘আমার কোনও আগ্রহ নেই। কারণ, দেশের রাজনীতিতে এখন বিরক্তি এবং রাগ উদ্রেককারী পরিস্থিতি। যেখানে এই মুহূর্তে ডান, বাম বা মধ্য— কেউই কোনও ভাবনা বা চিন্তা বা কোনও আদর্শ থেকে আর রাজনীতি করেন না।’

পরমব্রতর মতে, ঘন ঘন দলবদলের মাধ্যমে মানুষ সহজেই বদলেও যাচ্ছেন। বললেন, ‘ছোটবেলায় আমরাও মানুষকে দলবদল করতে দেখেছি। তার মধ্যে একটা সময়জ্ঞান বা সভ্যতার চিহ্ন থাকত। কিন্তু এখন বিষয়টা ইনস্ট্যান্ট নুডলস্‌-এর মতো হয়ে গিয়েছে! ইনস্ট্যান্ট দলবদল। দেশের রাজনীতি একটা বড় সার্কাস। মঞ্চে সার্কাস দেখলে তা-ও মজা পাই, এটা দেখে বিরক্তি তৈরি হয়।’

রাজনীতি নিয়ে যুব সমাজের প্রতি পরামর্শ জানিয়ে পরমব্রত বলেন , ‘আমার মনে হয়, দেশের রাজনীতিকরা চান যে তরুণ প্রজন্মের যেন তাদের দেখে একটা বিরক্তি তৈরি হয়। যাতে তারা আরও বেশি করে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যায়। এই বিরক্তি ও রাগটা মনে হয় তাদের যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের যুব সমাজের মনে বাঁচিয়ে রাখা উচিত।’

পরমব্রতের নিজস্ব রাজনৈতিক সচেতনতা রয়েছে। তিনি বললেন, ‘আমি রাজনীতি করি না বলে যে রাজনীতি বুঝি না, এটা বললে চলবে না। তা হলে সেই সুযোগে এরা আমাদের এক্সপ্লয়েট করবেন।’

প্রত্যেকবার ভোটের আগে তারকাদের কাছে বিভিন্ন দলের তরফে টিকিটের প্রস্তাব আসে। এখনও পর্যন্ত পরমব্রত কি কোনও প্রস্তাব পেয়েছেন? অভিনেতা হেসে বললেন, ‘এবার এখনও আসেনি। আগের বার এসেছিল। আমি আমার সিদ্ধান্ত এতটাই স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, তাই হয়তো আর আসেনি।’