‘প্রতিটি সাংবাদিক নির্যাতন-মামলা-হামলার ঘটনায় নিজ পেশার মাঝে দুটি পক্ষের উদ্ভব ঘটে; একটি নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের পক্ষে আরেকটি যোগ দেন প্রতিপক্ষের সাথে; মূলত এরাই সুবিধাভোগী রাক্ষুসে সাংবাদিক’। এমনি একটি গ্রুপের উদ্ভব ঘটেছে নকলার শেরপুরেও। যারা ইতিমধ্যে ইউএনও'র পক্ষাবলম্বন করে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেছেন। তাদেরকে বলতে চাই আগে পেশার মর্যাদা রক্ষা করুন,পরে দালালি।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ‘যারা নিজ পেশার স্বার্থ-মর্যাদা জলাঞ্জলি দিয়ে সাময়িক সুবিধা নিতে ভিন্নমতের মানুষকে সহযোগিতা করছেন, যা রীতিমত বেঈমানি এবং রাক্ষুসে সাংবাদিকতার শামিল। সংগঠিত ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিক রানার কারাদণ্ড নয়; এটি অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও সরকারের জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে নকলার ইউএনও-এ্যাসিল্যান্ড।’
তিনি বলেন, ৫০ লাখ টাকার দুর্নীতির তথ্য চেয়ে শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। দুর্নীতির ঘটনা আড়াল করতে সে তথ্য না দিয়ে উল্টো সরকারি কাজে বাঁধাদান, অফিসের মধ্যে হট্টগোলের কথিত অভিযোগ তুলে কারাদণ্ড দিয়েছেন নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া উম্মুল বানিন এবং এ্যাসিল্যান্ড। ইউএনও তার দপ্তরের দুর্নীতি, অনিয়মকে ধামাচাপা দিতে সাংবাদিক রানাকে তথ্য না দিয়ে সেখানে নিজেই উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং কথিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দেন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের বিচার হওয়া উচিত।
ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় সারাদেশে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ইতিমধ্যে। দেশের সাংবাদিক সমাজ নকলার ইউএনও এবং এ্যাসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উত্তাল। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেই সময়ে একজন সাংবাদিকের তথ্য চাওয়াকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নকলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বিএমএসএফ সভাপতি আরও বলেন, তারা রাষ্ট্রীয় তথ্য কমিশনের তথ্য অধিকার আইনকে নিজেরাই ভুলুণ্ঠিত করেছেন। আমরা বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক বিএমএসএফফোরামের পক্ষ থেকে দেশের সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করবো; আপনারা সাংবাদিক- জাতির বিবেক, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আপনারা নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির মত ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে শেরপুরের সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন; প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নয়তো এমন ঘটনার খগড় একদিন আপনার-আমার ওপরও নেমে আসতে পারে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি রানার ওপর যা করা হয়েছে তা ছিল উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ওই দপ্তরের দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার কৌশল মাত্র।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করার জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিক রানাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার ৫ মার্চ নকলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.শিহাবুল আরিফ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। সাংবাদিক রানা বর্তমানে শেরপুর কারাগারে রয়েছেন।