সংবাদমাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যম সবখানেই চর্চা হচ্ছে তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে। জাতীয় দলের খেলা যখন থাকে, তখন বিষয়টি নিয়ে চর্চা বেড়ে যায়। এতে করে বিরক্ত দর্শকদের ধৈর্যের বাধ ভাঙছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাবনায় দেশসেরা ওপেনার আছেন। কিন্তু তার ভাবনায় কি সেটা তারা জানতে মুখিয়ে। তাতেই ক্রিকেট ভক্তদের যত বিরক্তি। সেই বিরক্তি এবার ফুটে উঠেছে বোর্ড কর্তার কণ্ঠেও।
বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্সের ভাইস চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন সরাসরি তামিম ইকবালের ইস্যু নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, 'জাতীয় দল সবার আগে প্রাধান্য পাবে। এখানে শর্ত দিয়ে ফেরা শোনাটাই খারাপ লাগে।'
মিরপুরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী-পারটেক্স ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। জাতীয় দলের খেলার সময় তামিমকে নিয়ে বিতর্ক দলের খেলায় প্রভাব ফেলে কী না জানতে চাইলে সুজন বলেন, 'আমি আসলে কোনো মন্তব্যই করতে চাই না বিষয়টা নিয়ে। অবশ্যই তামিম বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তার ব্যাপারে বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে। ও যেহেতু বলেছে বোর্ডের সঙ্গে বসবে। পাপন ভাই যেহেতু কথা বলতে চেয়েছেন। পাপন ভাই সিরাজ ভাই ও জালাল ভাইকে সেই দায়িত্বটা দিয়েছেন।’
সুজন যোগ করেন, ‘কোনটা ঠিক সময়ে বলবে, কখন বলবে, কখন তাদের সময় হয় বসার, এতদিন সময় লাগছে কেন? কারণ সবাই তো আমরা বাংলাদেশেই থাকি। সেই সময়টাই বা কেন হচ্ছে না সেটা আমি জানি না। তবে আমি মনে করি যত তাড়াতাড়ি বসে একটা সুরাহা করা যায় ভালো। এটা এমন একটা ব্যাপার যে প্রতিদিন 'টক অব দ্য টাউন' হয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রিকেট এসব কিছুর ঊর্ধ্বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, তামিমের অভিজ্ঞতা নিয়ে, পারফরম্যান্স নিয়ে কারই তো কোনো কথা নেই। মিডিয়াতে আমিও শুনি। তামিমের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছে অনেকদিন ধরে। এবারের বিপিএলে তামিমের সঙ্গে আমার শুধু হাত মেলানো হয়েছে খেলা শেষে। ওইভাবে বসে কথা হয়নি। আমি বলতে পারব না ও কি চাচ্ছে না চাচ্ছে। যেহেতু ও স্পেসিফিকালি প্রেসিডেন্ট স্যারের সঙ্গেই বসতে চাচ্ছে, এখানে আমার কথা না বলাই ভালো। কথা বলুক, কেন খেলতে চাচ্ছে না, কি হলে খেলবে, এটা ওকে প্রেসিডেন্ট স্যারকে ক্লিয়ার করাইটাই ভালো। এটার মধ্যে আমাদের থার্ড পারসন না যাওয়াটাই ভালো। আমরা সবাই চাই তামিম ফিরে আসুক।’
শুরুতে তামিমকে নিয়ে তেমন কোনো সমালোচনা ছিল না। তারপরই সুজন তীব্র সমালোচনা করেন তামিমের, ‘তামিম খেলতে চাইলে অবশ্যই খেলবে। কিন্তু শর্ত দিয়ে খেলবে, একজন ক্রিকেটারের মুখ থেকে এই কথাটা শুনতে যেন কেমন দেখায়। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলব, দেশ, জাতীয় দল – এসব অনেক আগে, অনেক ঊর্ধ্বে। এখানে আসলে শর্ত থাকবে কথাটা শুনতেই খারাপ দেখায়। তামিম এত বছর বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিয়েছে, ওকে আমাদের প্রয়োজন। দল, নির্বাচকরা আছেন, তারা যদি মনে করেন তামিমকে আমাদের প্রয়োজন… অবশ্যই তামিমকে আমাদের প্রয়োজন। দরকার হলে খেলবে। কিন্তু সেটা কোনো কিছুর বিনিময়ে বা কোনো শর্তে, সেটা কতোটা যৌক্তিক, আমি নিজেও বলতে পারব না।’
প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ডিপিএলের প্রথম দিনেই খেলতে নেমেছিলেন তামিম। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে মাত্র ১৭ রান করেই আউট হয়ে গেছেন তিনি। অবশ্য তার দল পেয়েছে ৭১ রানের জয়।