শিবলীর আদ্যন্ত ব্যাটিং

রঙ হারিয়েছে বহু আগে। তাতে গ্যালারি জুড়ে গর্জন তোলা দর্শকে নেমেছে ভাটা। তাতে কি, ক্রিকেটাররা তো সারা বছর ধরে এই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রতীক্ষায় থাকেন। কারও কাছে আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম, কারও কাছে আবার নির্বাচকদের নজর কেড়ে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়া। ক্রিকেটারদের বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা লিগের পর্দা উঠেছে গতকাল থেকে। মিরপুর, বিকেএসপি ও ফতুল্লায় হয়ে গেছে উদ্বোধনী দিনের তিনটি ম্যাচ। যেখানে নিজেদের খেলায় জয় পেয়েছে আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। পুরনো আর নতুনদের মিশেলে পারফরম্যান্সগুলো মাঠে বসে দেখেছেন বিসিবির নির্বাচকরাও।

একসময়ের চাকচিক্য আর উৎসব রাঙানো ঢাকা লিগের আজ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচে দলকে দিয়েছিলেন নেতৃত্বও। তবে ব্যাট হাতে এদিন জ¦লে উঠতে পারেননি। মাত্র ১৭ রান করে ফিরে গেছেন তিনি। দলের টপ অর্ডার, মিডল অর্ডার সবাই হয়েছেন ব্যর্থ। তাতে দেড় শোর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। তবে শেষবেলায় নাজমুল অপু ও রুবেল হোসেন মিলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। তাতে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছিলেন তারা। আর তাতেই শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৭১ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তামিমের প্রাইম ব্যাংক।

এই ম্যাচে বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ (৪ উইকেট) ও স্পিনার সানজামুল ইসলাম (৩ উইকেট)। এ ছাড়া নাজমুল অপু ব্যাট হাতে ৪০ রানের পাশাপাশি বল হাতে নেন ১ উইকেট। অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য দেখিয়ে জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও।

এই খেলা দেখেছেন জাতীয় দল নির্বাচকমন্ডলীর কনিষ্ঠতম সদস্য হান্নান সরকার। তিনি বললেন, ‘নতুন কেউ নয়, পুরনোরাই অভিজ্ঞতার আলো ছড়িয়েছে। তবে দুই তিনটা ম্যাচ গেলে পরে আসলে বোঝা যাবে। বেশিরভাগ ক্রিকেটাররা সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে অনেক আগে। সদ্যই শেষ হয়েছে বিপিএল। তাই এখনই পারফরম্যান্স নিয়ে মূল্যায়ন করা হবে কঠিন। তবে দুই-তিনটা ম্যাচ গেলেই ধারা ধরে ফেলবে ক্রিকেটাররা।’

এদিকে হোম অব ক্রিকেটে নবাগত পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ১৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। সাব্বির হোসেনের ৫৯ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ২৬৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিলেন তারা। মোহর শেখ ও আসাদুজ্জামান পায়েল নেন তিনটি করে উইকেট। সেই রান তাড়ায় নেমে মাত্র ৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় টুর্নামেন্টের নবাগত দল পারটেক্স। ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তানভির ইসলাম।

বিকেএসপিতে গতবারের রানার্সআপ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৬ উইকেটে হারিয়েছে গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমিকে। আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় গাজী। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা আশিকুর রহমান শিবলী। টিপু সুলতানের তোপের মুখে একাই ইনিংসকে টেনে নিয়ে গেছেন ডিপিএলে প্রথমবার খেলতে নামা শিবলী। ১৩৩ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইনিংসের আদ্যন্ত ব্যাট করার কীর্তি গড়েন।

মিরপুরে বসে ইউটিউবে খেলাটা দেখেছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তিনি দেশ রূপান্তরকে বললেন, ‘শিবলী গাজী টায়ার্সের হয়ে একাই খেলেছে। ৮৯ রানের ইনিংসটা মনে রাখার মতোই। আর মিরপুরে সাব্বিরও আগ্রাসী মেজাজে ৭১ রানের ইনিংস খেলেছে। তবে আপনি যদি তাদের নির্বাচনের কথা বলেন তাহলে বলব, জাতীয় দলের পথ অনেক লম্বা। অনেকগুলো ধাপ (বাংলা টাইগার্স, এইচপি) পেরিয়ে আসতে হবে এখানে।’

গাজী টায়ার্সের ১৬৭ রান সাইফ হাসানের ৪৫, ফজলে মাহমুদের ৩১, অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের অপরাজিত ৩১ ও ইয়াসির আলির ৪৪ (অপরাজিত) ইনিংসে ৩৮তম ওভারেই টপকে যায় শেখ জামাল।