কুড়িগ্রামে ১ বছরে ৮ হাজার মামলা, জরিমানা আদায় আড়াই কোটি

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ব্যস্তবায়নে গত ১ বছরে কুড়িগ্রামে ৮ হাজার ৪৮০টি বিভিন্ন যানবাহনকে মামলা দেওয়া হয়েছে। এ মামলাগুলোর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৮ হাজার ৩৫০টি মামলা। আর এসব মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মতো।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) কুড়িগ্রাম ট্রাফিক অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কুড়িগ্রাম ট্রাফিক পুলিশ অফিস সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জেলায় ৮ হাজার ৪৮০টি বিভিন্ন যানবাহনের ওপর মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪৬৫ জন রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। এসব গাড়ির চালকরা পুলিশের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যার ফলে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। অপর দিকে সচেতনতা বাড়াতে জেলায় প্রায় ১০৫টি জনসচেতনতামূলক সভা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মঈনুদ্দিন মিয়াজি বলেন, আমি যেদিনই জেলা শহর যাই, প্রায় দেখি ধরলা ব্রিজ পশ্চিম পাড়ে সার্জেন্টরা বিভিন্ন গাড়ির কাগজপত্র চেক করছে। এটা অবশ্যই ভালো, যাদের গাড়ির কাগজপত্র নাই তারা তাদের সামনে যাবে না। তখন হবে কি চালকরা গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স করবে। বৈধভাবে সড়কে চলাচল করবে। সেক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ এমন তৎপর থাকলে, কমে আসবে সড়ক দুর্ঘটনা। পাশাপাশি সরকার রাজস্ব হারাবে না। যদি আবার পুলিশের সার্জেন্টরা ঘুষ নিয়ে চালকদের ছেড়ে দেয়, তাহলে তো দু পক্ষেই ক্ষতির সম্মুখীন হবে তাই না।

জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বানিউল আনাম বলেন, কুড়িগ্রামের সুযোগ্য পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় আমরা সড়কে কাজ করে চলেছি। সড়কে যেন সকলেই সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ মেনে চলে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। হেলমেট বিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি যেন সড়কে চলতে না পারে বিষয়টি নিশ্চিত করছি।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ব্যস্তবায়নে আমরা কাজ করে চলেছি। মালিক শ্রমিক ইউনিয়ন, পেশাদার মোটরযান চালক স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারী জনসাধারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমরা সচেতনতামূলকসভার আয়োজন করেছি। হেলমেট বিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি যেন সড়কে না চলে এ নিয়ে কাজ করছি আমরা।