নিউ ইয়র্ক প্রেস ক্লাবের ইফতারে সাংবাদিক-ব্যবসায়ীর মধ্যে হাতাহাতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলে সাংবাদিক ব্যবসায়ীর মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্তোরাঁর পার্টি হলে অনুষ্ঠিত নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকসহ ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ও সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তাসের মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে ক্লাবের নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমেকর্মী সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ ও ইসলামী চিন্তাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মৌলানা শাহ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিক।

ইফতার মাহফিলের শেষ পর্যায়ে একটি টেবিলে সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীনের সঙ্গে দেশীয় রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক মইন উদ্দিন নাসের। এক পর্যায়ে তিনি শাহীনের সাম্প্রতিকালের শিক্ষকদের নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এতে উভয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পাশে বসে থাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম সাংবাদিক মইন উদ্দিন নাসের গায়ে হাত দিয়ে আস্তে কথা বলার অনুরোধ করলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন নাসের। এক পর্যায়ে নাসের আজিমকে ঘুষি মারেন।

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন নাসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি তাকে চিনি না, কোনোদিন তাকে দেখিও নাই। তিনি আমার গায়ে হাত দিয়ে কথা বললে তিনি তুমি কে বলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তবে আজিমকে ঘুষি মারার বিষয়টি অস্বীকার করেন সাংবাদিক নাসের।

নাসের উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে আলাপ হচ্ছিল এখানে বাইরের লোক এসে কথা বলবে কেন? এদের কে দাওয়াত দিয়েছে? এ ধরনের লোকদের দাওয়াত করার আগে সাধারণ সদস্যদের অনুমতি নিয়েছে কিনা সেটা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করেন।

ব্যবসায়ী নুরুল আজিম জানান, ঠিকানার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীনের ওপর তিনি ভীষণ ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাদের কথা কাটাকাটি এমন এক পর্যায়ে গিয়েছিল যে, সেটা কাউকে না কাউকে থামাতে হতো। তাই আমি থামাতে গিয়েছিলাম। তিনি আমার ওপরে ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইফতার শেষ হওয়ার পর ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি হাতাহাতির ঘটনাটি শুনেছেন তবে প্রত্যক্ষভাবে দেখেননি। ঘটনাটি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন হট্টগোল ও হাতহাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কখনও আশা করিনি। এটি নিঃসন্দেহে একটি দুঃখজনক ঘটনা।

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন নাসের প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।