গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মসজিদে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মুসল্লিদের মাঝে মারারামারি ঘটনা ঘটেছে। দুপক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ মুসল্লি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আজ শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমার নামাজের পর বরমী ইউনিয়নের সোহাদিয়া গ্রামের পুরাতন জামে মসজিদে মারামারির এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আহতরা হলেন, নাজমুল ইসলাম, আবদুল জব্বার, পারভেজ আহম্মেদ, ফেরদৌস আহাম্মেদ, মাইনুদ্দিন মিয়া , মাহমুদুল সরকার শিমুল, হারুন অর রশিদ, ফরিদ আহম্মেদ, হিমেল মিয়া , রুবেল সরকার , ওয়াদুদ মিয়া, আব্দুস সাত্তারসহ আরও বেশকজন।
স্থানীয়রা জানান, গত ১০ বছর ধরে সোহাদিয়া পুরাতন জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শাহাজউদ্দিন। বেশ কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন মসজিদ পরিচালনা সব দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর গত তিন মাস আগে মসজিদের মুসল্লিদের সমন্বয়ে নতুন এক কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটিতে সভাপতি করা হয় স্থানীয় শাহজাহান সরকারকে। তবে সে কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। এ নিয়ে দুজনের সমর্থকদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই পক্ষের মুসল্লিরা বৈধ-অবৈধ কমিটি নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক সময় দুই পক্ষের মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা বাড়লে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুইপক্ষের অন্তত ২০ মুসল্লি গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুই বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজন হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে। তবে আগেই মারামারিতে বেশজন আহত হয়ে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।