ফেনী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় ছাগলনাইয়া উপজেলার গোপাল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৭ মার্চ) ভোর রাত্রে তাকে ইউনিয়নের দুর্গনগর সিংহ পাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মোশারফ হোসেন ছাগলনাইয়া উপজেলার গোপাল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেনী নদীর শুভপুর ইউনিয়ন ও গোপাল ইউনিয়নে অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
জানা যায়, ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য শুভপুর বালুমহাল ইজারা নেয় পাঠান নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের ছোট ভাই। ওই ইজারার নাম করে বিগত কয়েক বছর যাবত অন্তত ৮/১০টি স্থানে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে আশপাশের ফসলী জমি, বাড়িঘর, আশ্রয়ণ কেন্দ্র, সরকারি সেচস্কীমের সামগ্রী ও কবরস্থান ভেঙে বিলীন হতে থাকে নদীতে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে এক পর্যায়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রবিবার ভোরে ঘোপাল ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোশাররফ হোসেনকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি হাসান ইমাম জানান, রবিবার ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘোপাল ইউনিয়নের দুর্গাপুর সিংহনগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় নুরুল হুদা মাস্টার বাড়ি থেকে মোশারফ হোসেনকে (৫১) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।