ভিসা নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তা কাটিয়ে সৌদি আরব থেকে কুয়েত পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেখানে ২১ মার্চ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের ম্যাচটি খেলবে তারা। দলের দুজন খেলোয়াড় বাদে বাকিরা কুয়েতের ভিসা পেয়েছিলেন। অনিশ্চয়তা ছিল চন্দন দাস ও রফিকুল ইসলামকে নিয়ে। রবিবার সৌদি থেকে কুয়েতের উদ্দেশ্যে বিমান ছাড়ার ঘণ্টা তিনেক আগে তারা দুজনও ভিসা পান। ফলে পুরো দল রবিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় কুয়েতে পৌঁছেছে। সৌদিতে দুই সপ্তাহ কন্ডিশনিং ক্যাম্প নিয়ে ভীষণ তৃপ্ত বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। শনিবার রাতে ট্রেনিং সেশন শেষে সে কথাই বলেছেন স্প্যানিশ কোচ। খেলোয়াড়রাও আত্মবিশ্বাসী ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ইতিবাচক একটা ফল পাওয়ার ব্যাপারে।
২৮ জন ফুটবলারকে এই দুই সপ্তাহে খুব কাছ থেকে দেখেছেন কাবরেরা। তাদের নিয়ে অনেক কাজও করেছেন মাঠে ও মাঠের বাইরে। সৌদি আরবের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করেছেন দলকে প্রস্তুত করার। কুয়েতে চারদিন সময় মিলবে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরুর আগে কাবরেরার কণ্ঠে ঝরেছে সন্তুষ্টি, ‘দারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে সৌদি আরব ছাড়ছি। এখানে এসে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন ছিল তার সবটাই পেয়েছি। এখানে আবাসন, খাবার-দাবার থেকে শুরুর করে সব সুযোগ-সুবিধা উন্নতমানের ছিল। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাদাভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দল নিয়ে বসেছি, টেকটিক্যাল দিকগুলো নিয়ে কাজ হয়েছে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনাগুলোও জানতে পেরেছি।’
সুদানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে কুয়েত গেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি কাবরেরার শিষ্যরা হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। ফলাফল নয়, কাবরেরার কাছে অভিজ্ঞতাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘সুদানের মতো দলের সঙ্গে খেলার সুযোগটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। দুই সপ্তাহের ট্রেনিং নিয়ে আমরা আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কুয়েতে যাচ্ছি। অফিশিয়াল ম্যাচ অনেক কঠিন। এই ক’দিনে বেশ ক’জন তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়কে পুরো দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে পেরেছি। তাদের আমাদের ভাবনাগুলো জানাতে চেয়েছি এবং তারাও বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। পুরো স্কোয়াডই বলতে গেলে প্রস্তুত। সাদ কিছুটা সমস্যা নিয়ে এসেছিল। তবে এখানকার সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারও ভালো পুনর্বাসন হয়েছে। সুদানের বিপক্ষেও কিছু সময়ের খেলার ফলে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
সাদ উদ্দিনও খুশি দলের সঙ্গে এক হয়ে অনুশীলন শুরু করতে পেরে, ‘বেশ ভালো ট্রেনিং হয়েছে সৌদিতে। সবাই সুস্থ আছে। দলের সঙ্গে অনেকদিন পর ফুল ট্রেনিং করতে পেয়েছি। এখানে আসার পর থেকে ফিজিওর সঙ্গে পুনর্বাসনে ছিলাম। কঠোর পরিশ্রম করেছি। খুব ভালো লাগছে যে দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করতে পেরেছি।’ এই ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন সাদের ছোট ভাই তাজ উদ্দিন। এটা নিয়েও রোমাঞ্চিত সাদ, ‘খুব এক্সাইটেড যে আমার ছোট ভাই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে। দুই ভাই এক সঙ্গে খেলতে পারব, ভেবেই ভালো লাগছে। আশা করি ও ভালো করবে।’
মাঝমাঠে বাংলাদেশের অন্যতম আস্থা মোহাম্মদ হৃদয়। আবাহনীর এই মিডফিল্ডার মুখিয়ে আছেন ফিলিস্তিনের বিপক্ষে কোচের দেখানো পথে হেঁটে একটা ভালো ফল পেতে, ‘একটা লম্বা সময় সৌদি আরবে কাটালাম। সবাই মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট। ২১ মার্চ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। কোচ আমাদের সবাইকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটা সবাই মাঠে করতে পারলে ইতিবাচক ফল হবে। মোট কথা যেটা করলে পয়েন্ট পেতে পারব, সেটা আমরা করার চেষ্টা করব। প্রতিটি দায়িত্বই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝমাঠে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে ভালো কিছু হবে।’