পবিত্র মাহে রমজানে বড়দের অনুকরণে অনেক ছোট ছেলেমেয়ে রোজা রাখতে বেশ পছন্দ করে। তাই পরিবারের সবার উচিত তাদের রোজা রাখাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তারা যেন সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারে সে বিষয়টাকেও নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে গরমে ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় না খেয়ে থাকা ছোটদের জন্য কষ্টকর। সেক্ষেত্রে শিশুদের রোজা পালনে শিশুর শারীরিক কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত সাত-আট বছর বয়স থেকেই অনেক ছেলেমেয়েই রোজা রাখতে চায়। শিশুকে রোজা রাখায় অভ্যাস্ত করতে প্রথম দিকে তাকে অর্ধেক সময় রোজা রাখতে দিন। অর্থাৎ সেহরি খেয়ে দুপুর অব্ধি রোজা রাখতে দিন। এতে সে ধীরে ধীরে রোজার সঙ্গে অভ্যস্ত হবে
তবে শিশুর রোজা রাখার সময় শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি যাচ্ছে কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
রোজাদার শিশুর সাহরি
সাহরিতে শিশুর খাওয়ার প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে এবং অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। ভাত, পাতলা খিচুড়ি, সবজি, মুরগি-মাছ, দুধ ইত্যাদি খাবার সাহরিতে খাওয়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া সাহরিতে শিশুকে খেজুর বা কলা খাওয়ানো উচিত যাতে করে দিনের বেলা শরীরে ক্যালরি পাওয়া যায়।
তবে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ পান করতে দিতে হবে শিশুকে যাতে করে দিনের বেলা ডিহাইড্রেশন না হয়ে যায়।
রোজাদার শিশুর ইফতার
ইফতারে বাচ্চাদের কখনোই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ানো উচিত নয়। ইফতারে বাচ্চাদের খাদ্য অবশ্যই হতে হবে পুষ্টিকর কিন্তু মজাদার। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা তাজা ফলের জুস এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী ও পুষ্টিকর। এ ছাড়া ইফতারে ক্যালরি/ প্রোটিন/ কার্বোহাইড্রেট/ ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। যেমন—মুরগির মাংস ও চিজ স্যান্ডউইচ, চিজ ও সবজির তৈরি পাস্তা বা নুডলস, সবজি দিয়ে রোল ইত্যাদি। এ ছাড়া ইফতারে দই/চিড়া/কলা বা ফল জাতীয় খাবার খাওয়া বেশি ভালো।
এছাড়া বিভিন্ন ফলের তৈরি স্মুদি বা কলা ও দুধের ব্যানানা শেক, দুধ ও ডিমের তৈরি পুডিং, ফল ও দুধের তৈরি কাস্টার্ড ও শিশুর শরীরে শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করবে।
তবে ইফতার থেকে শুরু করে সাহরি পর্যন্ত বাচ্চাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি কম না খাওয়া হয়।
রোজাদার শিশুর যত্ন
যেহেতু গরমের মধ্যে রোজা হচ্ছে এবারও সুতরাং বাচ্চাদের নিয়মমাফিক অবশ্যই গোসল করতে হবে এবং দুপুরে অবশ্যই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। রোজা রাখলে শিশু যেন পর্যাপ্ত ঘুমায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এছাড়া মানসিকভাবে যাতে তারা খুব খুশি থাকে, এ ব্যাপারে পরিবারের সবাইকে একযোগে লক্ষ রাখতে হবে।