জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীরকে সাময়িকভাবে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সদ্য বিদায়ী প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান পদত্যাগ করায় মোহাম্মদ আলমগীর কবীরকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ. স. ম. ফিরোজ উল হাসানের লিখিত অনুরোধের প্রেক্ষিতে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীরকে ১৮ মার্চ (সোমবার) অপরাহ্ন হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ করা হলো। তিনি প্রচলিত নিয়মে সুবিধাদি ভোগ করবেন।
বিদায়ী ও নবনিযুক্ত প্রক্টরদ্বয়কে দায়িত্ব হস্তান্তর বা গ্রহণের সনদ যথাসময়ে নিম্নস্বাক্ষরকারীর অর্থাৎ রেজিষ্ট্রার মো. আবু হাসানের নিকট প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি বহিরাগত গৃহবধূকে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সদ্য বিদায়ী প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধাক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলমের বিরুদ্ধে। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নৈতিক স্থখলনজনিত কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকার অপরাধে স্থায়ী চাকরিচ্যুত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও গর্ভপাত করতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা এক ছাত্রীকে জোর করে দায়মুক্তিপত্র লেখানোর অভিযোগ ওঠে আ স ম ফিরোজ উল হাসানের বিরুদ্ধে। ধর্ষণকাণ্ডের পর থেকে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলম ও আ স ম ফিরোজ উল হাসানকে তদন্ত সাপেক্ষে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। টানা আন্দোলনের পর গত ১১ মার্চ থেকে একই দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করা শুরু করে ধর্ষণকান্ডের পর গঠিত আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম 'নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ'।
অবরোধের তৃতীয় দিন শেষে ১৩ মার্চ বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড নূরুল আলমসহ প্রশাসনিক বডির অন্যান্যরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সেসময় উপাচার্য আশ্বাস দেন ১৭ মার্চের ভেতরে প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান ও প্রাধাক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলম সেচ্চায় পদত্যাগ না করলে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে। উপাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতির ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আলমসহ প্রশাসনিক বডির অন্যান্যরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে অফিস আদেশের মাধ্যমে আ স ম ফিরোজ উল হাসানকে প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীরকে স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে ফিরোজ উল হাসানকে প্রক্টরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, প্রক্টরের পদত্যাগ প্রমাণ করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধর্ষকের সহায়তাকারীর স্থান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনরা খুশি হয়েছেন। মাহমুদুর রহমান জনির মতো বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধ-রাজ্য গড়ে তোলার কারিগর ফিরোজ উল হাসানের অপসারণ বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক জীবন দিতে সহায়তা করবে। আমরা তাকে তদন্তের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যাতে করে আগামীতে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কেউ এরকম দুঃসাহস করতে সামান্যতম সাহসও না দেখায়।