পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রথম ওয়ানডে সিরিজেই জয়। সেই সঙ্গে এক সেঞ্চুরিতে ১৬৩ রান করে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়। প্রাপ্তির খুশিতে উদ্বেলিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চড়া হাসি নিয়েই উপস্থিত হন ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে।
১৮ বলে ৪৮ রানের অপরাজিত বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের নায়ক লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তাকে নিয়ে শান্ত বলেন, ‘প্রথমে তো বোলিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেগ স্পিনার আমাদের নাই, ওর যদি শেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে দেখা হয় আমার মনে হয় ভালো বোলিং করছে। সাথে ব্যাটিংটা নিউজিল্যান্ড সিরিজে যেরকম ছিল সেখান থেকে আরও উন্নতি করেছে মনে হয়। তবুও অনেক উন্নতির জায়গা আছে। ওটা নিয়ে কাজও করছে। অবশ্যই অনেক খুশি। এ রকম খেলোয়াড় দলে থাকলে তো অবশ্যই ক্যাপ্টেনের জন্য অনেক সহজ হয়।’
সিরিজ জয়ের পর দলীয় ছবি তুলতে গিয়ে মুশফিককে দেখা যায় হেলমেট নিয়ে খুনসুটিতে মাততে। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে শান্তর কাছে। জবাবমূলক উদযাপন ছিল কি না প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘না আমরা শুধু উদযাপন করেছি। আমাদের মন মতো উদযাপন করেছি। মনে যেটা আসছে সেটা করেছি। সিরিজ জেতার পর স্বাভাবিকভাবে উদযাপন হবে। মুশফিক ভাই বিশেষ করে তিনটা ম্যাচে যেরকম এফোর্ট দিয়েছেন এবং বিশেষ করে আজকের ইনিংসটা অন্যতম সেরা ইনিংস আমার মনে হয় উনার অনেকগুলা ইনিংসের মধ্যে। এই তো।’
মারনাস লাবুশেনকে ছাপিয়ে কনকাশন বদলি হিসেবে সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলেন তানজিদ হাসান তামিম। দলের জয়ের ভিত গড়ে যায় তানজিদের ওই ইনিংসেই। তানজিদের ইনিংস নিয়ে শান্ত জানান, ‘খুবই ভালো আমার মনে হয়। ইনিংসটা যেভাবে শুরু করেছে আমার মনে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছে বিশেষ করে মাঝের ওভারে কিছু ওভারে খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে যেভাবে আউট হয়েছে সেটা নিয়ে খুশি ছিলাম না কারণ সেট ব্যাটার উইকেটে খেলাটা শেষ করে আসতে পারলে ভালো হয়। কারণ কেউ ৮০ করসে ১০০ করসে এটা আসলে ম্যাটার করে না যতক্ষণ না দল জিততেসে। গুরুত্বপূর্ণ হল যে রানটা কতটা দলের সাহায্য করছে। অবশ্যই শুরুতে ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে খেলাটা শেষ করা উচিত ছিল।
বোলারদের কৃতিত্বে লঙ্কানদের ২৩৫ রানে আটকে রাখা সম্ভব হয়। শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই উইকেটে এর থেকে দ্রুত আউট করা যেত। খুবই ভালো বোলিং করেছে। ২৩৬ (রানে) আমরা আটকেছি ওদের। তাসকিন, শরিফুল, ফিজ, মিরাজ, রিশাদ প্রত্যেকটা বোলারই খুবই ভালো বোলিং করেছে। উইকেটে একটুখানি সাহায্য ছিল শুরুতে। পেসাররা সেটা কাজে লাগিয়েছে। ওরা টার্গেট যা দিয়েছে আমাদের তাড়া করার মতোই ছিল।’
চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলা প্রসঙ্গে শান্তর ভাষ্য, ‘হ্যাঁ অনেক কিছু পেয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় দক্ষতার উন্নতির জায়গা আছে। আজকের ম্যাচটা হয়তো আরও ভালোভাবে জিততে পারতাম। দিনশেষে জিততে পেরেছি বলে খুশি। সামনে যখন আবার সিরিজ খেলতে আসব তখন আরও সুন্দরভাবে প্ল্যান করে কীভাবে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি সেটা প্ল্যান করতে হবে।’