বাংলাদেশের বাজে দিন; ১৪০ রানে আউট, উইকেটও মাত্র একটি

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

বাংলাদেশ দলের বেশ বাজেই কাটল দিনটা। হারারে টেস্টের প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হয়েছে। পরে উইকেটও তুলতে পারছে না। ১ উইকেট হারিয়েই ১৩৬ রান করে ফেলেছে তারা। কাল দ্বিতীয় দিনটা তারা শুরু করবে ৪ রানে পিছিয়ে থেকে, এখনও হাতে আছে ৯ উইকেট!

নিয়ন্ত্রিত বাউন্স আর ধারাবাহিক পেস দিয়েই বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধসিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। সুনিপুণ লাইন-লেন্থে উইকেটের পিছনে শট খেলতে বাধ্য করেন তারা। এই ফাঁদেই আটকে যায় সফরকারী ব্যাটিং বিভাগ। ১০ উইকেটের ৮টি ধরা পড়ে ফাঁদে। উইকেটরক্ষক টাফাডজাওয়া সিগা একাই নেন ৫টি ক্যাচ। শেষ ২৭ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় শান্তদের ইনিংস।

চলতি বছর প্রথমবার ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে নামলেও উইকেটের চরিত্র বুঝতে ভুল করেননি রিচার্ড এনগারাভা। এজন্য অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক ম্যাচে টস জিতে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান এই পেসার। প্রথম ওভারে ৫ রান দেন তিনি। এরপর টানা চার ওভারে কোনো রান বের করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। ব্যাটারদের হাসফাস করতে দেখে সপ্তম ওভারে নিজের পরিবর্তে নিউম্যান নিয়ামুরির হাতে বল দেন এনগারাভা। প্রথম বলেই বাজিমাত করেন ডানহাতি পেসার, ফেরান ২ রানে থাকা জয়কে। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না এই ওপেনার। রিভিউ পদ্ধতি না থাকায় আউট মেনে নিয়েই ফিরতে হয় তাকে। মমিনুলের সঙ্গে ৩০ রানের জুটির পর সাদমানও একই পথ ধরেন। তৃতীয় উইকেটে শান্তকে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন মমিনুল, গড়েন ৭৭ রানের জুটি। এর মধ্যে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। টেস্টে এটি তার ৪১তম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস, যা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে তামিমের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তবে এই ইনিংসটাকে আর বড় করতে পারেননি মমিনুল। সর্বোচ্চ ৬০ রানে নিয়ামুরির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। এরপরই ধসে পড়ে ব্যাটিং বিভাগ। নিয়ামুরি-এনগারাভার সঙ্গে ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের তোপের মুখে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন নাজমুল হোসেন (১৯), মুশফিকুর রহিমরা (৯)। অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা তাওহীদ হৃদয় (৩) ও আমিনুল হাসানও (৪) আক্ষেপের পাল্লা ভারী করেন। সব মিলিয়ে ৮ ব্যাটার দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। এতে দুই সেশন ব্যাট করার আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে তৃতীয় সর্বনিম্ন ১৪০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ দল। নিয়ামুরি একাই নেন ৪ উইকেট।

ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে বোলাররাও সুবিধা করতে পারেননি। উদ্বোধনী জুটিতে ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারান তোলেন ৮৯ রান। সব মিলিয়ে ১৪ ইনিংস পর টেস্টে ওপেনিং জুটিতে ফিফটি পার করে জিম্বাবুয়ে। সর্বশেষটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে, গত বছর সিলেটে। কারানকে (৪২) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। তবে অর্ধশতক পূর্ণ করে ৭৬ রানে অপরাজিত আছেন কাইয়া। তার সঙ্গে ৪৭ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে আজ ১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন ব্রেন্ডন টেইলর। তাইজুল ইসলাম ক্যাচ না ছাড়লে গতকালই ফিরতে হতো এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত