টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতার পর হাতঘড়ি দেখিয়ে উদযাপন করেছিল শ্রীলঙ্কা দল। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দল উদযাপন করল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের সেই স্ট্র্যাপ ছিঁড়ে যাওয়া হেলমেটের অভিনয়ে, যেখানে ম্যাথিউসের ভূমিকায় মুশফিকুর রহিম! নিদাহাস ট্রফি দিয়ে জমে ওঠা এই দ্বৈরথে রঙ পড়ল আরেক পরত, বোঝাই যাচ্ছে ডালাসে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে লড়াইয়ের ঝাঁজটা থাকবে চড়া।
বিজয়ী লেখা বোর্ড আর ট্রফি নিয়ে উদযাপন হবে, ছবি তোলা হবে, সবাই দাঁড়িয়ে। এমন সময় মুশফিক এলেন হেলমেট হাতে, ‘এদিক দিয়ে যাব না, ওদিক দিয়ে যাব’ এ রকম কিছু বললেন। এরপর চলে গেলেন। অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন সবাই। এরপর হেলমেট রেখে মুশফিকও যোগ দিলেন উদযাপনে। সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, তাদের যেভাবে ভালো লেগেছে, সেভাবেই উদযাপন করেছেন ওয়ানডে সিরিজ জয়, ‘না, আমরা জাস্ট উদযাপন করেছি। আমাদের মনমতো উদযাপন করেছি। মনে যেটা আসছে, সেটা করেছি। সিরিজ জেতার পর স্বাভাবিকভাবে উদযাপন হবে। মুশফিক ভাই, বিশেষ করে তিনটা ম্যাচে যে রকম এফোর্ট দিয়েছেন এবং বিশেষ করে আজকের ইনিংসটা অন্যতম সেরা ইনিংস আমার মনে হয় ওনার অনেকগুলো ইনিংসের মধ্যে। এই তো।’ শান্তই সিলেটে বলেছিলেন যে ‘টাইমড আউট’ ইস্যু থেকে শ্রীলঙ্কানদের বের হয়ে এসে বর্তমানে পা রাখা উচিত। তবে মুশফিকের মিমিক্রি বুঝিয়ে দিল, মাঠে কেউ কিছুই ভোলে না!
রিশাদের ব্যাটিংয়ের হাতটা কেমন, সেটা খানিকটা বোঝা গিয়েছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ছক্কা মারাটা তার কাছে ছেলেখেলা, সেই রিশাদ কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচটা এভাবে জিতিয়ে দেবেন, সেটা অবশ্য ভাবেননি শান্ত, ‘প্রথমে তো বোলিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেগ স্পিনার আমাদের নেই, ওর যদি শেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে দেখা হয় আমার মনে হয় ভালো বোলিং করছে। সঙ্গে ব্যাটিংটা নিউজিল্যান্ড সিরিজে যে রকম ছিল, সেখান থেকে আরও উন্নতি করেছে মনে হয়। তবুও অনেক উন্নতির জায়গা আছে। ওটা নিয়ে কাজও করছে। অবশ্যই অনেক খুশি। এ রকম প্লেয়ার দলে থাকলে তো অবশ্যই ক্যাপ্টেনের জন্য অনেক সহজ হয়। মিরাজের আউটের পর তো অবশ্যই ডাগআউট একটু চিন্তিত ছিল। কিন্তু রিশাদকে তেমন কোনো প্ল্যান দেওয়া হয়নি, ওকে বলা হয়েছিল ওর যেভাবে মন চায় সেভাবে যেন ব্যাট করে। স্বাভাবিক যে গেম আছে, ওইটা যেন চালিয়ে যায়।’
রিশাদ যদি চমকে দেন তাহলে তানজিদ তামিম নিজেই বোধ হয় চমকে গেছেন। ম্যাচের ৪৯তম ওভারে বাউন্ডারি বাঁচাতে ডাইভ দিয়ে চোট পান সৌম্য। কনকাশন বদলি হিসেবে নামেন তামিম। যদিও শ্রীলঙ্কার সহকারী কোচ নাভেদ নাওয়াজ এখানে একটু আইনের ফাঁক গলে সুবিধা নেওয়ার ব্যাপার দেখছেন, ‘আমরা বদলি খেলোয়াড় দেখে অবাক হয়েছি। ফুটেজ দেখেছি আর আমরা দেখেছি তাকে বলের দিকে ডাইভ দিতে। তাকে দেখে মনে হয়নি কোনো কিছুর সঙ্গে ওভাবে ধাক্কা খেয়েছে। আমাদের ম্যাচ রেফারি আর আচরণবিধির ওপর শ্রদ্ধাশীল থেকে ক্রিকেটের আইনের ওপরও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। ক্রিকেট খেলায় অনেকগুলো নিয়ম আছে, আমার মনে হয় মাঝে মাঝে আমরা নিয়মগুলোতে চড়ে বসি।’ শান্ত অবশ্য বললেন তামিমসহ বাকিদের তৈরি থাকতে বলা হয় ম্যাচের শুরু থেকেই, ‘অবশ্যই এখন কনকাশনের যে নিয়মটা আছে যেকোনো প্লেয়ারের যেকোনো সময় খেলতে হতে পারে। প্রত্যেকটা প্লেয়ারের যেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয় সেভাবে প্রস্তুত করা হয়। প্রত্যেকটা প্লেয়ার সেভাবে প্রস্তুত হয়। সে কারণেই হয়তো ওর ইনিংসটা দেখে মনে হয়নি ও প্রস্তুত ছিল না। সে প্রস্তুত ছিল।’ তানজিদ তামিমের ব্যাটিং নিয়েও উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক, তবে খুশি হতেন সেঞ্চুরি করলে, ‘খুবই ভালো আমার মনে হয়। ইনিংসটা যেভাবে শুরু করেছে আমার মনে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছে, বিশেষ করে মাঝের ওভারে, কিছু ওভারে খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে যেভাবে আউট হয়েছে, সেটা নিয়ে খুশি ছিলাম না। কারণ সেট ব্যাটার উইকেটে খেলাটা শেষ করে আসতে পারলে ভালো হয়। কারণ কেউ ৮০ করছে, ১০০ করছে এটা আসলে ম্যাটার করে না যতক্ষণ না দল জিতছে। গুরুত্বপূর্ণ হলো যে রানটা কতটা দলের সাহায্য করতেছে। অবশ্যই শুরুতে ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে খেলাটা শেষ করা উচিত ছিল।’
অতৃপ্তি আছে অনেক, তবে দিনশেষে ম্যাচটা জিতে সিরিজ জিততে পেরে খুশি শান্ত, পূর্ণমেয়াদে অধিনায়ক হওয়ার পর এটাই প্রথম সিরিজ জয়। ক্যামেরায়ও দেখাচ্ছিল তার বুনো উল্লাস। শান্ত বললেন, ‘হ্যাঁ অনেক কিছু পেয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় দক্ষতার উন্নতির জায়গা আছে। আজকের ম্যাচটা হয়তো আরও ভালোভাবে জিততে পারতাম। দিনশেষে খেলাটা জিততে পেরে খুশি। সামনে যখন আবার সিরিজ খেলতে আসব, তখন আরও সুন্দরভাবে প্ল্যান করে কীভাবে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটা প্ল্যান করতে হবে।’