রবিবার বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সম্প্রতি নানা অভিযোগ তুলে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া আরচার রোমান সানা। সেই আলোচনায় রোমানকে সব অভিযোগ তুলে নিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছেন চপল। তবে রোমান সানার সাফ জবাব, ‘এমন কোনো অপরাধ করিনি যে ক্ষমা চাইতে হবে।’
আরচারির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন রোমান সানা। তার হাত ধরেই খেলাটা কয়েক বছরে উঠে এসেছিল আলোচনায়। ২০১৯ বিশ^ চ্যাম্পিয়নশিপে রিকার্ভ এককে ব্রোঞ্জপদক জিতে টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার অনন্য রেকর্ড গড়েন। এ ছাড়া বিশ^কাপ, এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে অগুনতি আন্তর্জাতিক আসরে পদক জিতেছেন এই আরচার। যদিও বিপরীতে মেলেনি কিছুই। মাসে তিন হাজার টাকা বেতন আর সতীর্থ দিয়া সিদ্দিকীকে বিয়ের পর দুই হাজার টাকা করে ঘর ভাড়া নিয়েই এত দিন মুখ বুজে ঘাম ঝরিয়েছেন টঙ্গীর ক্যাম্পে। বঞ্চিত হতে হতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে উঠছেন না বলেই সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দেন।
অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে অনেক কষ্টের কথাই তুলে ধরেন এই আরচার। পদকজয়ী হওয়া সত্যেও প্রাপ্য সম্মান, সুযোগ-সুবিধা না মেলার অভিযোগ তোলেন তিনি। অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফেডারেশনকেও চিঠি দিয়েছিলেন রোমান। তবে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। রোমানের এই ঘোষণায় তোলপাড় শুরু হয় গোটা ক্রীড়াঙ্গনে। এ নিয়ে মুখ খোলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চপল। পাল্টা এন্তার অভিযোগ রোমানের বিরুদ্ধে তোলেন তিনি। রোমানকে মানসিক রোগীর কাতারে ফেলে দেন। আরচারি খেলে কোটিপতি হয়েছেন রোমান সানা, খুলনায় নিজ বাড়িতে পাঁচতলা বাড়ি তুলেছেন, পদক জয়ের পর আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কার দেওয়ার মতো অনেক কথাই বলেছেন চপল।
রবিবার জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ ও দিয়া সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে কথা হয় দুজনের মধ্যে। সেখানেই চপল রোমানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে খেলা শুরু করতে বলেন। রোমান অবশ্য বলেছেন, ক্ষমা তিনি চাইবেন না। ‘আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। ক্ষমা কেন চাইব? আমি তো ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। কারও সঙ্গে আমার কোনো সমস্যাও নেই। আমি একটা পরিবর্তনের কথা বলেছি। যাতে কেবল আমি নই, সবাই উপকৃত হয়। ক্ষমা চেয়ে জাতীয় দলে ফেরার আর কোনো ইচ্ছা নেই আমার। আমার কথা হলো ক্যাম্পে থাকা আরচারদের এবং যারা অতীতে দেশকে পদক এনে দিয়েছেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। যদি দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবেই ফিরব। নইলে আর জাতীয় দলে খেলব না।’
নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ দাবি করে রোমান চপলের মানসিক রোগী দাবির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন, ‘দেখুন, বিশে^র সব দেশের আরচারি দলের সঙ্গে একজন মনোবিদ থাকেন। পাশের দেশ ভারতেরও আছে। তাহলে তো দুনিয়াজুড়ে সব আরচার মানসিক রোগী। আমার রাগ একটু বেশি। এ জন্য একবার মনোবিদের কাছে গিয়েছিলাম। সেটা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। মনোবিদের মেডিকেল সার্টিফিকেট বিশ^ আরচারিতে পাঠাতে হয়েছে। তাই বলে আমি মানসিক রোগী হয়ে গেলাম?’
খুলনায় পাঁচতলা বাড়ির যে কথা চপল বলেছেন, সেটা বানোয়াট দাবি করে রোমান বলেন, ‘প্রথমত, স্যার বলেছেন আমি খুলনা শহরে পাঁচতলা বাড়ির মালিক। এটা সম্পন্ন মিথ্যা। খুলনার রূপসায় আমি আর আমার বাবা মিলে পৈতৃক সম্পত্তিতে কোনোমতে এক তলা একটা বাড়ির কাজে হাত দিয়েছি। অর্থের অভাবে সেটাও পুরোপরি করতে পারিনি। উনি কোত্থেকে আমার পাঁচতলা বাড়ি পেলেন, সেটা উনিই বলতে পারবেন।’
রোমান পদক জয়ের পর পারফরম্যান্স বোনাসের প্রতিশ্রুত না পাওয়ার কথা বলেছেন, ‘উনি (চপল) বলেছেন পদক জয়ের পর এক হাজার ইউরো বা ডলার দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুত বোনাস আমি পাইনি। বড়জোর লোকলজ্জা এড়াতে ১০০ ডলার দিয়েছেন। অথচ তিনি বলে দিলেন হাজার ডলার দিয়েছেন। ওনার মতো সম্মানিত লোকের এসব কথা বলা ঠিক নয়। তাতে উনি নিজেই সম্মান খোয়াচ্ছেন।’
সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা আরচার হয়েছিলেন রোমান সানা। সাম্প্রতিক ফর্মটা একটু পড়তির দিকে হলেও ঘরোয়া আরচারিতে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেই সব সমালোচনার জবাব দিতে চান রোমান।