স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন মামলায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগের ওয়ারলেস অপারেটর (বেতার চালক) মো. শাহীনুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত ৮টায় শহরের পৌর মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে. এম আজিজুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল যৌতুক চেয়ে না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগে গত ১১মার্চ রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়ারলেস অপারেটর শাহীনুল ইসলাম ও তার মাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা (২৪) বাদী হয়ে মোংলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর শাহীনুল ইসলাম পৌর শহরের সিঙ্গাপুর মার্কেটের ব্যবসায়ী তার শ্বশুর তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেয়। সেই টাকা না দিয়ে কিছুদিন পর মোটরসাইকেল কিনবে বলে তার স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরার মাধ্যমে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা যৌতুক চায়। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই রাতে দেড় বছরের মেয়েসহ তাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। মারধরে সহযোগীতা করেন শাহীনুল ইসলামের মা আনোয়ারা বেগম (৫৩), বোন শারমিন আক্তার (১৯), শামীমা নাসরিন আক্তার ঝুমুর (৩৫) ও তার জামাই (স্বামী) আনোয়ারুল আজিম (৪৩)।
আজিজুল ইসলাম জানান, এই পাঁচজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন শাহীনুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা। এই মামলায় শাহীনুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকে বুধবার (২০ মার্চ) সকালে আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট জেল হাজতে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে শাহীনুল ইসলামের বাবা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহেরকে ফোন করা হলে তিনি নিউজটি না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ওয়ারলেস অপারেটর শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে শুনেছি। এখন তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।