সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সোদিয়া চাদপুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার ভোরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করে একই এলাকার আয়নাল হক প্রামানিক (৬০)। বিষয়টি টের পেয়ে ধর্ষক আয়নালকে আটক করে এলাকাবাসী। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওইদিন সকালেই এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চুর উপস্থিতিতে একটি শালিস বৈঠক শুরু হয়। এতে ধর্ষককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগীর মামা আয়নাল হক বাদী হয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চু ও ধর্ষক আয়নালসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে নির্যাতিত তরুণীর স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সাথে সোদিয়া চাদপুর ইউনিয়নে বাস করেন। ঘটনার দিন ভোরে ওই তরুণীর মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যাওয়ার পর প্রতিবন্ধী ওই তরুণী বাড়ির বাইরে হাঁটাহাঁটি করছিল। এ সময় তাকে ফুসলিয়ে পাশের এক নির্জন বাগানবাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আয়নাল হক প্রামানিক। ঘটনাস্থলের পাশেই শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সময় এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজন ডেকে ধর্ষক আয়নাল হক প্রামানিককে আটক করেন। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চুর উপস্থিতিতে দ্রুত শালিস বৈঠক বসিয়ে ধর্ষককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ শালিস মেনে না নিয়ে ওই তরুণীর স্বজনেরা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষককে গ্রেপ্তার ও ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর এদিন সন্ধ্যায় ওই তরুণীর মামা আয়নাল হক বাদী হয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চু ও ধর্ষকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন আয়নাল হক প্রামানিক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষক আটক ও ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর ভিকটিমের মামা আয়নাল হক বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমেদ মোস্তফা খান বাচ্চু বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মেয়েটির আত্মীয় স্বজন বসে সবার সম্মতিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। এরপর ওই মেয়েটির এক আত্মীয় পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়। পরে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে কি না বা আমাকে আসামি করা হয়েছে কি না তা জানি না। যদি আসামী করা হয়ে থাকে তবে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তা করা হয়েছে।