প্রত্যাশা আর নৈপুণ্যের মিশেলে অজিদের হয়তো আরও কম রানে আটকাতে পারত বাংলাদেশ। তবুও ২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারলেই রচিত হতো অজিবধের ইতিহাস। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এর আগে কখনো ২১০ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। তাই এই রান টপকাতে পারলে সেটিও হতে পারত নতুন রেকর্ড। তবে সে সবের কিছুই হয়নি। উল্টো ৯৫ রানে অলআউট হয়ে প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশ হেরেছে ১১৮ রানের ব্যবধানে।
বড় হারের পেছনে মাঝের ওভারগুলোতে এলোমেলো বোলিংয়েরই বেশি দায় দেখছে বাংলাদেশ দল। ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও অস্ট্রেলিয়া তোলে ২১৩ রান। তবে নিজেদের সামর্থ্য এর চেয়েও বেশি বলে মনে করেন বাংলাদেশ নারী দলের সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার।
‘(দুই দলের) পার্থক্য যদি বলিবোলিং একটু খারাপ হয়েছে। আমাদের সামর্থ্য আছে, আমরা এর চেয়ে ভালো করতে পারি। আর ব্যাটিংয়ে ২-৩টা রানআউট হওয়াতে পিছিয়ে গিয়েছিলাম।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘মাঝে ওরা থিতু হয়ে গিয়েছিল, জুটি হয়ে গিয়েছিল। সেটা আগে ভাঙতে পারলে চিত্রটা আলাদা হতো।’
নাহিদা ও ফাহিমার ঘূর্ণিতে ৭৮ রানেই ৫ উইকেট হারায় অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার ১১২ রানের সময় অ্যাশলে গার্ডনারকে ফিরিয়ে অজিদের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন নাহিদা। ৩২ রান করা গার্ডনারকে উইকেট তরে সালমা খাতুনকে (৫২) টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যান নাহিদা। ১০ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট, তবে শেষের ঝড়ে কিছুটা মøান হয়ে যায় সে পারফরম্যান্স। সে সময়ের দলের মনোভাব প্রকাশ করেছেন নাহিদা, ‘অ্যানাবেল (সাদারল্যান্ড) দারুণভাবে দেখিয়েছে এটি। কঠিন সময়ে নেমেছিল, প্রথম ৩০ বলের মতো দাঁত কামড়ে পড়ে ছিল। এরপর আপনি হাত খুলে খেলতে দেখেছেন। এমন পিচে আপনাকে নেমে শুরুতে কঠিন কাজগুলো করতে হবে, এরপর আপনি শেষে পুরস্কার পাবেন।’
এই সাদারল্যান্ডের ক্যাচ নাহিদা নিজেই ছেড়েছেন দলের ১৩৫ রানের সময়। স্বর্ণার উইকেট পাওয়ার সেই আক্ষেপ দূর করেন রাবেয়া খান। প্রথম সিøপে তার দুর্দান্ত ক্যাচে উইকেট পেয়েছেন স্বর্ণা। ফেরান ২১ বলে ১২ রান করা ওয়্যারহ্যামকে। তাতে ভাঙে দুজনের ৩৬ রানের জুটি। ১৪৬/৭ থেকে সংগ্রহটা দুশো ছাড়ান সাদারল্যান্ড-কিং জুটি। শেষ ওভারে গিয়ে ফাহিমার তো অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ডের লজ্জায় ফেলে চার ছক্কা, এক বাউন্ডারিতে কিং নেন ২৯ রান। টাইগ্রেসদের মধ্যে ২টি করে উইকেট শিকার সুলতানা ও নাহিদার।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই আসে ধাক্কা। দ্বিতীয় বলে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ফারজানা হক পিংকি। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার হোঁচট খায় অষ্টম ওভারে। অ্যাশলে গার্ডনার বোলিংয়ে এসেই দ্বিতীয় বলে ফেরান মুরশিদা খাতুনকে। ২৪ বলে ২ চারে ১০ রান করা মুরশিদা ক্যাচ দেন সিøপে বেথ মুনির হাতে।
সেখান থেকে ৪৯ রানের জুটি গড়েছিলেন জ্যোতি ও সোবহানা। এরপর ৭০ থেকে ৭৫, পাঁচ রান যোগ হতেই নেই বাংলাদেশের তিন উইকেট। ২৫ রানের মধ্যে শেষ আট উইকেটের পতন হলে ৩৬ ওভারে ৯৫ রানেই অলআউট হতে হয় বাংলাদেশকে।
শনিবার মিরপুরেই হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।