আবগারি দুর্নীতি মামলায় ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। ভোটের আগে এভাবে একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সরব তার দল আম আদমি পার্টিসহ তৃণমূল, সিপিএম ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। তারা বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে।
ইডির দাবি, আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন তেলঙ্গনার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের মেয়ে কে কবিতা।
অভিযোগ উঠেছে, আবগারি নীতি তৈরি করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির নেতারা প্রায় ১০০ কোটি রুপি ঘুষ পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে এই নীতির ফলে সরকারের দুই হাজার ৮০০ কোটি রুপির রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
আবগারী নীতি কী?
মদের কালোবাজারি বন্ধ করা এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২১ সালে দিল্লির লাইসেন্সধারী মদ বিক্রেতাদের একাধিক ছাড় দিতে আবগারি নীতি চালু করেছিল কেজরিওয়ালের সরকার। মদের হোম ডেলিভারি এবং দোকানগুলো ভোর ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
দিল্লি সরকার দাবি করেছিল, আবগারী নীতি তৈরির ফলে সরকারের আয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় আট হাজার ৯০০ কোটি রুপি। তবে মদের এই বিপুল ছাড়ের ফলে রাজধানীতে অর্থনৈতিক অপরাধ বেড়ে গেছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট করেছিলেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা। তিনি সিবিআইকে তদন্তের পরামর্শও দেন। পরে এই নীতি প্রত্যাহার করে দিল্লি সরকার।
তবে ওই আবগারি নীতি নিয়ে মামলা হয়। তার তদন্তে নেমে ইডি দাবি করে, আবগারী নীতি চালু করে অন্তত ১০০ কোটি রুপি ঘুষ নিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালসহ আম আদমি পার্টির নেতারা। তাদের অভিযোগ আবগারি নীতি নিয়ে কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া, কে কবিতাসহ অন্য রাজনৈতিক নেতারা ষড়যন্ত্র করেছেন। বাড়তি রাজস্ব আদায়ের কথা বলে আদতে কিছু ব্যবসায়ীর সুবিধা করে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মদের পাইকারি বিক্রেতাদের জন্য ১২ শতাংশ লাভের ব্যবস্থা করে তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ ঘুষ হিসেবে নিয়েছিলেন আম আদমি পার্টির নেতারা। ফলে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি রুপি, অন্যদিকে কেজরিওয়ালসহ নেতাদের পকেটে ঢুকেছিল ১০০ কোটি রুপি।
আম আদমি পার্টির দাবি, ইডি নিজের দাবির সপক্ষে আদালতে কোনো নথি দেখাতে পারেনি। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করে বিজেপি দিল্লির ক্ষমতা দখল করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।