আবগারি দুর্নীতি মামলায় ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। শুক্রবার (২২ মার্চ) তাকে হাজির করা হয় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে। সেখানেই ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, কেজরিওয়ালই আবগারি দুর্নীতির ‘প্রধান হোতা’। এই অভিযোগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়েছে ইডি।
কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের আগেই ইডি দাবি করেছিল, আবগারি নীতি তৈরি করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির নেতারা প্রায় ১০০ কোটি রুপি ঘুষ পেয়েছিলেন। এদিন এ বিষয়ে আদালতে ইডি জানায়, পুরো কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে আছে ‘সাউথ গ্রুপ’ যার সঙ্গে আম আদমি পার্টি এবং বাকি অভিযুক্তদের যোগাযোগ ঘটাতেন কেজিরওয়াল।
আবগারি দুর্নীতি ৬০০ কোটি রুপির বেশি বলেও আদালতে দাবি করেছে ইডি। এই টাকার মধ্যে থেকে ১০০ কোটি ‘সাউথ গ্রুপ’ দিয়েছে বলে দাবি তাদের। ইডির আরও দাবি, এই গ্রুপের সঙ্গেই ভারত রাষ্ট্র সমিতির নেত্রী, তেলঙ্গানা বিধান পরিষদ সদস্য তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর কন্যা কে কবিতার যোগ রয়েছে। ঘটনাচক্রে তিনিও দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আদালতে আরও দাবি করেছে, ‘সাউথ গ্রুপ’কে সুবিধা পাইয়ে দিতে আবগারি নীতিতে বদল আনেন কেজরিওয়াল। বিনিময়ে তিনি ওই গ্রুপ থেকে টাকা আদায় করতেন। পুরো লেনদেন নগদ অর্থে হত বলে দাবি। ইডি আদালতে জানিয়েছে, অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের নির্দিষ্ট ধারা মেনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে।
আবগারি দুর্নীতি ছাড়াও কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, তিনি দুই উচ্চপদস্থ ইডি কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, কেজরিওয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময়ে ইডির হাতে আসে ১৫০ পাতার একটি নথি। সেই নথিতে ইডির দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার (স্পেশাল ডিরেক্টর এবং জয়েন্ট ডিরেক্টর) ব্যক্তিগতসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় তথ্য রয়েছে, যা আদালতে পেশ করা হবে।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেপ্তার