গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার রাজধানীর মস্কোর একটি কনসার্ট হলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা ও বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৬০ হন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৪৫ জন।
নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
আইএস-এর দায় স্বীকার করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
আইএসআইএস-কে নামে পরিচিত জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখা এবং রাশিয়ায় আক্রমণ করার জন্য তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
আইএসআইএস-কে কি?
ইরান, তুর্কমেনিস্তান ও আফগানিস্তানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত খোরাসান অঞ্চলে (পুরোনো নাম) সক্রিয় থাকা একটি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ বা আইএস-কে। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এই গোষ্ঠীর আবির্ভাব। চরম বর্বরতার জন্য দ্রুতই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে গোষ্ঠীটি।
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের সবচেয়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সহযোগীর একটি আইএস-কে। ২০১৮ সালে সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ হওয়ার পর থেকে তা আবার কমতে শুরু করে। আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার এবং দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে গোষ্ঠীটি।
২০২১ সালে মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার পর থেকে দেশটিতে আইএস-কের মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দাদের তথ্য জোগাড়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলছে যুক্তরাষ্ট্র।
গোষ্ঠীটির আক্রমণ ইতিহাস
আইএসআইএস-কে এর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ভেতরে এবং বাইরে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ইতিহাস রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানে জোড়া বোমা হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহতের পেছনে আইএস-কের হাত রয়েছে বলে নিশ্চিত হন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
এছাড়া ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রাশিয়ার দূতাবাসে রক্তক্ষয়ী আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস-কের সদস্যরা।
২০২১ সালে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ১৩ মার্কিন সেনা ও বেশ কিছু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে আইএস-কে। তালেবানের কাবুল দখল এবং সেখান থেকে মার্কিন সেনা ও আফগান নাগরিকদের দেশ ছাড়ার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ওই হামলা হয়।
চলতি মাসের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ মার্কিন জেনারেল সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, আইএস-কে আগামী ছয় মাস বা এর কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থে হামলা করতে পারে। এসব হামলার বিষয়ে কোনো রকম পূর্বসতর্কবার্তা পাওয়া নাও যেতে পারে।
রাশিয়াতে কেন আক্রমণ করল আইএসআইএস-কে?
শুক্রবার রাশিয়ায় আইএসআইএস-কে-এর হামলাটি নাটকীয় বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গোষ্ঠীটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধিতা করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সোফান সেন্টারের কলিন ক্লার্ক বলেন, ‘দুই বছর ধরেই রাশিয়াকে টার্গেট করেছে আইএস-কে। তারা তাদের প্রচারণায় প্রায়ই পুতিনের সমালোচনা করে আসছে।’
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুগেলম্যান বলেন যে, ‘আইএসআইএস-কে মনে করে রাশিয়ার কার্যকলাপ নিয়মিতভাবে মুসলমানদের নিপীড়ন করে।"
তিনি আরও বলেন, ‘আইএস-কে মস্কোর বিরুদ্ধে নিজস্ব অভিযোগের পক্ষে মধ্য এশিয়ার কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিজেদের সদস্যর মতো বিবেচনা করে থাকে।‘