মেঘনায় বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় ভ্রমণতরী (ট্রলার) ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন শহরের কমলপুর এলাকার সুবর্ণা বেগম (২০), ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল সোহেল রানার স্ত্রী মৌসুমী বেগম (২৫) ও শহরের আমলাপাড়া এলাকার চন্দন দের শিশুকন্যা মেঘলা দে আরাধ্য (১২)।
গত শুক্রবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভৈরব থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ভ্রমণতরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরসোনারামপুর এলাকায় একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়।
খবর পেয়ে ভৈরব নদী ফায়ার সার্ভিস ও নৌ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ করেন। এতে ১২ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আটজন নিখোঁজ হয়। পরে সুবর্ণা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।
পরদিন শনিবার (২৩ মার্চ) দিনভর উদ্ধার কাজ চালিয়ে দুপুরের দিকে উদ্ধার হয় মৌসুমি ও মেঘলার লাশ। পরে সেগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কোনো মরদেহের সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনের মতো উদ্ধার কাজ বন্ধ রাখা হয়। আজ রবিবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকর্মীরা।
ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজিজুল হক রাজন, আজ ডুবে যাওয়া ভ্রমণতরীটি চরসোনামপুর চরের তীরবর্তী স্থানে ওঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকার বাসিন্দা ও ভৈরব হাইওয়ে থানার পুলিশের কনস্টেবল সোহেল রানা (৩২), তার শিশুকন্যা মাহমুদা (০৭) ও ছেলে রায়সুল (০৫)। ভৈরবের আমলাপাড়া এলাকার মেলন দে (৩৫) ও নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার আনিকা আক্তার (১৯)।