সিলেট টেস্টে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৫১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৪৭ রান।
‘এই ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা কী?’ সবার মুখে একটাই প্রশ্ন। প্রশ্নটা করা হয় নির্বাচক আবদুর রাজ্জাককেও। দ্রুত এভাবে উইকেট হারানোর পেছনে ক্রিকেটীয় যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না তিনিও, ‘ব্যাটিংয়ের দিক থেকে যদি বলেন আমার কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে এবং মেনে নেওয়ার মতো নয়। এই রকম ব্যাটিং হবে, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে...ওরা ভালো ব্যাটিং করেছে। ওদের ব্যাটিং দেখার পর আমাদের ব্যাটিং দুই রকম মনে হয়েছে। আমি হতাশ।’
সিলেটের উইকেটের প্রসঙ্গেও ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করেছেন রাজ্জাক, ‘পিচের সমস্যা হবে কেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে পিচ কি আকাশ-পাতাল পার্থক্য হয়ে যাবে নাকি। কিছুক্ষণ আগেই ওরা দুজন ১০০ মেরে গেল। ১০ মিনিটের বিরতি থাকে। ১০ মিনিটে উইকেটে কী এমন হলো। আসলে আমাদের অ্যাপ্লিকেশনে কিছু ভুল হয়েছে। আসলে আমাদের ভুল।’
দল যখন ৩৭ রানে ৪ উইকেটে হারিয়ে বিপদে, তখন লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ক্রিজ ছেড়ে পুল করতে গিয়ে আউট হওয়াটাও মানতে পারছেন না সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘টেস্ট ম্যাচে একজন সিনিয়র ব্যাটসম্যান এভাবে আউট হওয়া ঠিক নয়। আসলে লিটন দাস একা বলে নয়, এখানে কিন্তু ৫টা উইকেট পড়ে গেছে। সবারই ভুল। যারা যারা টেস্ট ম্যাচ খেলছে, তাদের ওর বয়স কম, ও ছোট, ও এখনো পাকাপোক্ত হয়নি, এগুলো বলার আসলে সুযোগ নেই। এ রকম সুযোগ এলে হ্যান্ডেল করতে পারবে বলেই তাকে দেওয়া হয়েছে। কারও একার দোষ নয়।’
এদিকে দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে লিটনের আত্মাঘাতী শটের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তার উত্তর ছিল এমন, ‘যে খেলোয়াড় খেলে ব্যক্তিগতভাবে সে-ই আসলে বলতে পারবে তার পরিস্থিতি কী চলছে, ওই মুহূর্তে কী চিন্তা করছে। শেষের দিকে অবশ্যই এটা কঠিন। আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। যেহেতু আমরা পেশাদার খেলোয়াড়। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের যে আউটগুলো হয়েছে, অবশ্যই হতাশাজনক। তারপরও আমরা চেষ্টা করব। মুমিনুল ভাই আছে, আমি আছি, আমরা যদি একটু রান করতে পারি, আমাদের জন্য ভালো হবে।’
তেড়েফুঁড়ে মেরে আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে লিটনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্য সবাই হতাশায় ছিল। এ রকম আউট হলে সবারই তো খারাপ লাগে।’
মিরাজ বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট আমরা অনেক দিন ধরে খেলছি। প্রস্তুতি সবাই আলাদাভাবে নিচ্ছে। সবাই সবসময় জানে আমাদের কন্ডিশন সম্পর্কে। আর আলাদা করে যা বললেন টেস্ট ক্রিকেটে সবসময় ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হয়, তখন খেলাটা আরও বড় হয়। আমরা যখন ওদের প্রথম সেশনে ৫ উইকেট নিয়ে ফেলেছিলাম তখন অনেকেই চিন্তা করেছিল ওদের ১০০ রানের ভেতরে অলআউট করে দেব। তারপর কিন্তু ওরা জুটি গড়েছে। দুজনে দুইটা ১০০ মেরেছে। টেস্ট ক্রিকেটটাই কিন্তু এরকম। ওপরে যদি কেউ ভালো না খেলে কিন্তু পরে যদি ২ জন ২টা ১০০ মারে বা ১৫০ মারে তাহলে কিন্তু হয়ে যায়।’
টেস্টে বারবার ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ হিসেবে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের আরও স্কিল বাড়াতে হবে। আমাদের অনেক জায়গায় ঘাটতি আছে। আমাদের হয়তো শট খেলার প্রবণতা একটু বেশি হচ্ছে। যে বলটা ছাড়তে পারি সেটা হয়তো খেলে দিচ্ছি তখন হয়তো আউট হয়ে যাচ্ছি। টেস্ট ক্রিকেটে আরও উন্নতি করতে হবে প্লেয়ারদের।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং অবাক করেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ থিলিনা কান্দাম্বিকেও। সংবাদ সম্মেলনে তাকে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে এমন হয়। দিনের শুরুতে পরিস্থিতি যেমন ছিল শেষে কিন্তু তা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ওরা (বাংলাদেশ) আমাদের এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি প্রত্যাশা করেনি। এটা হয়তো একটা কারণ। বাংলাদেশ সাধারণত লড়াই করে। সেদিক থেকে আমি একটু অবাক হয়েছি।’