পৌরসভার ৯২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২৫ মাসের বেতন বাকি, মেয়রকে শোকজ

মেহেরপুর পৌরসভার ৯২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২৫ মাসের ৬ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৯ টাকা বেতন বাকি রয়েছে। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে পৌরসভার রাজস্ব আয় সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বকেয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ কারণে মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটনকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে লিখিত জবাব চেয়ে চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চিঠিতে তাকে শোকজ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠি মেহেরপুর জেলা প্রশাসন এবং মেহেরপুর পৌরসভাকে পাঠানো হয়েছে।

২৪ মার্চ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়, মেহেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীর ২৫ মাসের বেতন বকেয়া বিষয়টি মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শামিম হাসান মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। প্রশাসনিক সেই তদন্ত প্রতিবেদনে এই পৌরসভার রাজস্ব আয়ের অর্থসহ বিভিন্ন খাতের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। পৌর অধ্যাদেশে বলা আছে— রাজস্ব আয় থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। অথচ প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীর ২৫ মাসের বেতন বাকি বিষয়টি অধ্যাদেশ পরিপন্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেতন বকেয়া ছাড়াও মেহেরপুর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্য গোপন করা, অসত্য হলফনামা দাখিল করাসহ বিধি নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুনীর্তি, অসুদপায় বা ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ বিষয়ে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মন্ত্রণালয় চিঠিতে আরও জানিয়েছে, মেহেরপুর পৌরসভার ৯২ কর্মকর্তা কর্মচারীর ২৫ মাসের বেতন ভাতা বকেয়া থাকায় এবং নিয়মিত বেতনভাতা পরিশোধ না করায় স্থানীয় সরকার  (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩২ ধারা অনুযায়ী অসদাচারণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে কেন আপনার (মেয়র) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শামীম হাসান বলেন, পৌরসভার লিখিত জবাব প্রদানের পর মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

মেহেরপুর পৌর মেযর মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, চিঠি পেয়েছি। জবাব দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।