ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফট্যানেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.) এপিএস শাহাদাত হোসেন রুমনের পরিচয় দিয়ে সরকারি খরচে হজের রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গতকাল সোমবার (২৫ মার্চ) ফেইসবুকে ও সংবাদকর্মীদের কাছে পাঠনো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান এমপির এপিএস শাহাদাত হোসেন রুমন।
তিনি জানান, সংসদ সদস্য ফেনী-৩ এর এপিএস পরিচয় দিয়ে সরকারি হজ রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রতারণা। এ বছর সরকারি খরচে কোন ব্যক্তিকে হজে পাঠানো হচ্ছে না। তাছাড়া আমি এ বিষয়ে কোথাও ফোন করি নাই বা কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করি নাই। যদি এ বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করে তাহলে তার নাম ও ফোন নম্বর দিয়ে নিকটস্থ থানায় অবহিত করার অনুরোধ করছি।
এপিএস সূত্রে জানা গেছে , চরদরবেশ ইউনিয়নে একজন মাদ্রাসা শিক্ষকসহ কয়েকজনকে ০১৭৫৩৭০৫৮৪১ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়। ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেকে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর (এপিএস) পরিচয় দেয়। সে সরকারি খরচে হজে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠিয়ে রেজিস্টে্রশন করতে বলে। ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।
আজাদ রহমান নামে চর সাহাভিকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানান, ০১৭৫৩৭০৫৮৪১ এই নম্বরে ফোন করে হায়দার আলী ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বলে পরিচয় দেন। ০১৮৮৬—৫৯৭০৭৭. এবং ০১৮৮৬—৭৮৬১২২ এই নম্বরে হজে রেজিস্ট্রেশনের করতে টাকা পাঠাতে বলেন। আমি ৩০ হাজার তিনশ টাকা পাঠিয়েছি।
সংসদ সদস্যের এপিএস শাহাদাত হোসেন রুমন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোথাও ফোন করি নাই কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও করি নাই। তিনি কাউকে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্য লে. জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি ভিত্তিহীন ও প্রতারণা বলে জানান এবং তিনি ভুক্তভোগীদের থানায় সাধারণ ডয়েরি করার পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে এ ধরণের কেউ ফোন করলে আর্থিক কোনো লেনদেনের কথা বললে তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে টাকার লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সুদ্বীপ রায় জানান, সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মোবাইলে প্রতারণা করা নিয়ে থানায় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে লিখিত কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান।