মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সমতলভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক ও জীবন উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতি পরিবারের মাঝে ২০টি করে মুরগি বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির সুবিধাভোগীদের মধ্যে সোনালী বা দেশি জাতের মুরগি দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে কক ও ব্রয়লার জাতের মুরগি। ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি হওয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের মুরগি। এতে সুফলভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৫ মার্চ) উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে ওজন ছোট ও ব্রয়লার জাতের মুরগি দেয়া হচ্ছে এমন মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক মুরগি বিতরণ বন্ধ কয়ে দেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রাণী সম্পদ দপ্তরের যোগসাজসে এ অনিয়ম করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১ হাজার ৪৯২ জন সুবিধাভোগীদের মধ্যে ২০টি করে মোট ২৯ হাজার ৮৪০টি মুরগি ও খাদ্য উপকরণ বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রাণী সম্পদ দপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকার জেনটিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমলগঞ্জে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পে ২০টি করে সোনালী অথবা দেশি জাতের ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের সুস্থ মুরগি দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অসুস্থ কম ওজনের ব্রয়লার মুরগি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মুরগি বিতরনকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে গাড়িতে করে কক ও ব্রয়লার জাতের অসুস্থ ছোট আকৃতির মুরগি নিয়ে আসা হয়েছে বিতরণের জন্য। মুরগিগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হবে। আবার কোন কোন মুরগির ওজন ২৫০ গ্রামেরও কম রয়েছে। ওজনে কম থাকায় মুরগি নিতে না চাইলেও সুবিধাভোগীদের মধ্যে জোরপূর্বক বণ্টন করা হয় মুরগিগুলো। এ সময় সুবিধাভোগীরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি মুরগি বিতরণ বন্ধ করে দেন।
আদমপুরে মুরগি নিতে আসা সুবিধাভোগী থৈবি বিবি, গুলেরজন বেগম ও রমিজ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোন মুরগি পাইনি। কাগজে স্বাক্ষর নিলেও মুরগি দেয়া হয়নি। মুরগি ছোট হওয়ায় গাড়ি ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।’
এদিকে খোজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে কমলগঞ্জ সদর, রহিমপুর, শমশেরনগর, মাধবপুর ও পৌরসভা এলাকায় বিতরণকৃত মুরগির বেশিরভাগই মারা গেছে।
মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে আদমপুরের নোয়াগাঁও গ্রামের সুবিধাভোগী সালেহ আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি মুরগির ওজন কম থাকায় নিতে চাইনি। তবুও জোড় করে দেয়া হয়েছে। বাড়িতে নেয়ার পরেই ৭টি মুরগি মারা গেছে। বাকিগুলোর অবস্থাও ভালো নাই।’
শমশেরনগরের কানিহাটি চা বাগানের সাবেক ইউপি সদস্য সিতারাম বীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাগানে যারা মুরগি পেয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ মুরগি মারা গেছে। অসুস্থ মুরগি বিতরণের ফলেই এ অবস্থা হয়েছে।’
প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেনটিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ধীরেন দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে ঠিকাদারের প্রতিনিধি রাজেন দাস জানান, ‘ধীরেন স্যার দেশের বাহিরে রয়েছেন। যদি মুরগি বিতরণ বন্ধ থাকে, তাহলে সঠিকভাবে দেয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. রমাপদ দের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মুরগি বণ্টনে অনিয়মের বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিক মুরগি বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’