হাদিউল ইসলামের কবিতা

একটি তুলসী গাছ

একটি তুলসী গাছ

সবুজ সমগ্র নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে

মুজিবের সমর্থিত, বলবান তর্জনীর মতো একা

 

এখন বসন্তপ্রধান দুপুর

তদ্ভব প্রণয়ে ঈষৎ চঞ্চল ভ্রমরের দল

ডানায় বিবিধ গান কম্পমান হাওয়ায় হাওয়ায়

 

একটি তুলসী গাছ

বিবিধ ভেষজ গুণে অসাম্প্রদায়িক

পয়ার থেকে অমিত্রাক্ষরে লিখছে বাংলাদেশ

 

প্রণোদনা

 

একদিন আচানক মধু, প্রণোদনা এসেছিলে

জীবনের জলসায় নেচেছিল পৃথিবীর পিলে

 

 

কমলা

একদা আয়েশ করে কমলা খেতো খুব

আজ সমুখে ব্যাদান মুখ; বসে আছো, যেনো

হেরেমের সুন্দরীদের পাহারা দিচ্ছো খোজা দারোয়ান

 

গীতবিতানের হৃদয়মথিত অমৃত কথন আজ তেতো

সবচেয়ে মধুরতম স্মৃতি স্মরণ করতেও

আজ অনীহা তোমার

নিরাসক্ত চোখ কেবল অতীতাশ্রয়ী

নন্দনে অরুচি, ঘুঙুরে বিরক্তি, জীবনে বিষাদ

 

আয়ত্ত থেকে ক্রমে আলগা হওয়া হাতের দিকে

ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে রয়েছো

অশ্রুসজল উদাস তাকিয়ে রয়েছো উঠোনের

গাছটার দিকে

কোথাও আয়না নেই,

তবু স্বীয় প্রতিবিম্বে দেখতে পাচ্ছো নৈরাশ্য অপার

কমলায় দু’একটা মাছি উড়ছে, তাড়াচ্ছে কেউ

কমলা হারাচ্ছে স্বাদ সন্তর্পণে একা

 

কোথাও নিভৃতে

কোথাও নিভৃতে

বেহালা থেকে সহমর্মিতা বেরুচ্ছে

তাতেই ফুঁপিয়ে কাঁদছে গাঢ় অন্ধকারের রাত

টুপটাপ বৃষ্টির অসহ্য দাবানলে অনড় মৌনতা

শরীরের ফুলগুলো ম্লান।

বকুল সান্ত্বনা দিতে গিয়ে দেখে

তার তো ভাষাই নেই

উপরন্তু জিহ্বা কাটা খনার দীর্ঘশ্বাসের বাতাস

চতুর্দিকে স্থির হয়ে আছে।