রোমাঞ্চভরা বার্নাব্যু অভিষেক এনদ্রিকের

শেষ বাঁশি বেজে উঠবে আর কয়েক মুহূর্ত পর। ২-৩ গোলে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিলের হার নিশ্চিত। ঠিক এমন সময় পর্তুগিজ রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন। গোল আদায় করে লুকাস পাকেতা দিলেন ভোঁ দৌড়। তার সঙ্গে তরুণ এনদ্রিক। উদযাপনটা ছিল দেখার মতো। ব্রাজিল যেন কোনো ট্রফি জিতে নিয়েছে। তিন পেনাল্টি আর ৬ গোলের ম্যাচটি ড্র করেই যেন অনেক কিছু পেয়ে গেল ব্রাজিলীয়রা। রিয়ালে যোগ দিতে যাওয়া বিস্ময় বালক এনদ্রিকের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ‘অভিষেক’টা রঙিন হয়ে রইল এই ড্রয়ে।

মঙ্গলবার রাতে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত খেলতে থাকা লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করায় পাওয়া স্পট কিকে রদ্রি শুরুতেই এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। ৩৬ মিনিটে দানি অলমো লিড বাড়ান। গোলের সহায়তাকারী সেই ইয়ামাল। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনের ভুলে রিয়াল তারকা রদ্রিগোর করা গোলে ২-১ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

বিরতির পর তুরুপের এক্কা বের করেন দরিভাল। কদিন আগেই ইংল্যান্ড বধের নায়ক এনদ্রিককে মাঠে নামান। এ রাতে বিস্ময়-বালক রাঙান বার্নাব্যু অভিষেক। কর্নার থেকে জটলায় বল পেয়ে অসাধারণ এক ভলিতে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান তিনি। ৮৭ মিনিটে রদ্রির দ্বিতীয় স্পটকিকে ব্রাজিল শিবিরে নেমে আসে শঙ্কা। যোগ করা সময়ও যখন প্রায় ফুরিয়ে। তখনই দেখা মেলে শেষ চমকের। গালেনোকে ফাউল করে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেন কারভাহাল। স্পট কিকে পাকেতার নেওয়া শট জালভেদের সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মাতে ব্রাজিল। ৩-৩ গোলের রোমাঞ্চে শেষ হয় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে আয়োজন করা এই ম্যাচ।

নৈপুণ্যে উজ্জ্বল এনদ্রিক ম্যাচশেষে বলেন, ‘আমরা সবসময়ই জিততে চাই। আমরা ব্রাজিল, নিজেদের ঐত্যিহ্যকে সম্মান করার জন্য হলেও সবসময় জেতা প্রয়োজন আমাদের। প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না যে সব ম্যাচেই জিতব। তবে নিবেদন, চেষ্টা, প্রতিজ্ঞা ও দৃঢ়তায় কখনো কোনো ঘাটতি থাকবে না।’