রাস্তার কাজ নিয়ে এলজিইডি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ

ফেনীতে সড়ক পাকাকরণের কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৭ মার্চ) সকালের দিকে সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর শর্শদি কেল্লাশাহ সড়কের নিমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, মো. মাসুদ রানা বাদী হয়ে একজনের নাম ও অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ফেনী সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা, কার্য-সহকারী মো. বেলাল হোসেন মজুমদার এবং নৈশপ্রহরী মোনুরুল আবছার রাজু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) এলজিইডির সদর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাজে অনিয়ম দেখতে পান। পরবর্তী বুধবার সকালের দিকে আবার পরিদর্শনে গেলে সড়কে বিটুমিনের পরিমাণ স্পেসিফিকেশনের তুলনায় কম দেখতে পান। ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় বিটুমিন মিশ্রণ করতে মৌখিক নির্দেশনা দেন তিনি। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহেল ও মোফার নেতৃত্বে শ্রমিকরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে তারা মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে এলে কার্য-সহকারী বেলাল হোসেন মজুমদার, নৈশপ্রহরী নুরুল আবছার রাজুকেও মারধর করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও শ্রমিকরা।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উত্তর শর্শদি থেকে ধোপাখিলা এলাকার কেল্লাশাহ সড়কের ৯৭০ মিটার সড়ক পাকাকরণের কাজের কার্যাদেশ পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ নয়নের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নয়ন এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দের এ সড়কের কাজ গত ২১ মার্চের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা ছিল। অথচ দু’ দিন আগে সড়কে বিটুমিন দেওয়া শুরু হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী দীপ্ত দাশ গুপ্ত বলেন, ঘটনাটি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, উন্নয়ন কাজে অনিয়মের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। এ ব্যাপারে সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অনিয়ম করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল আহাদ নয়ন প্রবাসে অবস্থান করায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় একটি অবহিতকরণ পত্র পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।