ক্যাচ মিস হাস্যকর রিভিউয়ে প্রথম দিন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র একবারই জয়ের হাসি হেসেছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ১৯ বার, ড্র ৫টি, যার শেষটি এ মাঠেই। অন্তত ক্রিকেটের কুলীন এই সংস্করণের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে লঙ্কানরা।

এত সবের পরেও ফর্ম, ভেন্যু চট্টগ্রাম এবং সাকিব আল হাসানের দলে ফেরায় বড় প্রত্যাশা নিয়েই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। অপ্রথাগত বোলিং পরিবর্তন, জোড় ক্যাচ মিস, হাস্যকর রিভিউ সব মিলিয়ে এককভাবে দিনটি শ্রীলঙ্কার হতে পারত। শেষ সেশনের জোড়া উইকেট ও কিপটে বোলিংয়ে তা হতে দেননি দুই হাসান। বাংলাদেশের ১০৪তম টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকের দিনে হাসান মাহমুদ জোড়া উইকেট শিকার করেন। ওই চার উইকেট খোয়ানোর বিনিময়ে বোর্ডে ৩১৪ রান তোলেন লঙ্কান ব্যাটাররা। শেষ নাগাদ দিনটা আসলে শ্রীলঙ্কারই।

চট্টগ্রামে দিনের শুরুটা হয়েছিল হাসান মাহমুদের হতাশা দিয়ে। মাহমুদুল হাসান জয় ফেলে দেন নিশান মাদুশকার ক্যাচ। না হলে ষষ্ঠ ওভারেই টেস্টের অভিষেক উইকেট হয়ে যেত হাসান মাহমুদের। সুযোগ এসেছিল ২২তম ওভারেও। কিন্তু সেবার দিমুথ করুনারতেœর ক্যাচ মুঠোয় ভরতে ব্যর্থ হন সাকিব আল হাসান।

শেষ পর্যন্ত এই জুটি ৯৬ রান করার পর রানআউটে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর সেই হাসান মাহমুদের থ্রোয়ে ৫৭ রানে আউট হন জয়ের ক্যাচ ড্রপের সময় ৯ রানে থাকা নিশান মাদুশকা। শান্তর হাস্যকর রিভিউর পরে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি হয় আরও বড়, ১১৪ রানের। চা বিরতির একটু আগে সেই জুটি ভাঙে দিমুথ করুনারতেœর বিদায়ে। হাসান মাহমুদের নতুন স্পেলের প্রথম বল ড্রাইভ করতে গিয়ে স্টাম্পে টেনে এনে সেঞ্চুরিবঞ্চিত হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। ফেরেন ৮৬ রানে। করুনারত্নের মতো একটুর জন্য সেঞ্চুরি পাননি কুশলও। সাকিবের টার্ন ও বাউন্সে স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়েন দশম সেঞ্চুরি থেকে সাত রান দূরে থাকতে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার নার্ভাস নাইনটিজে আউট হন তিনি। ১৫০ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ে ৯৩ রান করেন লঙ্কান উইকেটকিপার।

নতুন বল হাতে নিয়ে পরের জুটিকে বড় হতে দেননি হাসান মাহমুদ। অবশ্য তার আগেই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে থামাতে পারতেন যদি কঠিন সুযোগটি লুফে নিতেন মিরাজ। দ্বিতীয় দফায় সুযোগ লুফে নিতে ভুল করেননি। ৭১ বলে ২৩ রান করা ম্যাথিউসকে সাজঘরে ফেরান হাসান। দিনেশ চান্দিমাল ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন অনায়াসেই। দুটি করে চার-ছক্কায় ৩৪ রানে দিন শেষ করেন চান্দিমাল। ধনঞ্জয়া অপরাজিত থাকেন ১৫ রানে। টপ অর্ডার থেকে দারুণ শুরুর পর আরও বেশি রান করার সুযোগ হারানোর আক্ষেপ থাকতে পারে লঙ্কানদের। তবে করুনারত্নে তেমন ভাবেন না। তার চোখে, ‘(এই পুঁজিতে) আমরা খুশি। প্রথম দিনের জন্য এটা ভালো স্কোর। কাল (আজ) সংগ্রহটা আরও বড় করতে পারলে আমরা শক্ত অবস্থানে থাকব।’

দিনটি বাংলাদেশের হতে পারত শুরুতেই। মাত্র দুই ওভার করিয়েই খালেদকে থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিস্ময়কর। তবে হাসান নজর কেড়েছেন, পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামসের ভাষ্যে, ‘সে দারুণ বোলিং করেছে। নিজের লাইন, লেন্থ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। গতিও ভালো ছিল। সে শারীরিকভাবেও প্রস্তুত আছে। দারুণ এক্সাইটিং একজন বোলার। সিম মুভমেন্ট আছে ভালো, সুইং আছে, গতি আছে। একজন তরুণ পেসার হিসেবে যা চাইতে পারেন সবই তার মধ্যে আছে।’ আগের টেস্টে নাহিদের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাডামস বলেন, ‘আমি দারুণ রোমাঞ্চিত তাদের নিয়ে। খালেদের নেতৃত্বে তাদের আরও অনেক উন্নতি করার সুযোগ আছে।’

দিনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা সকালে তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আগের ম্যাচের মতোই এবার ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।’ বাংলাদেশ কোচ বলে দিয়েছেন আজকের করণীয় কী, ‘খুব ভালো বোলিং করতে হবে সকালে। ওদের দুজন ভালো ব্যাটসম্যান ক্রিজে আছে। বেঞ্চে আরও একজন। যদি লম্বা সময় ধরে ভালো না করি, তাহলে ওরা ম্যাচটাকে ছিনিয়ে নেবে।’ কোচের কথামাফিক বাকি কাজটুকু আজ বোলারদের।