বুয়েটে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় বসেছে দুই শিক্ষার্থী

গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রবেশের প্রতিবাদে ৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবিতে দুই দিন বিক্ষোভ করেছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এসময় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি প্রতিরোধে ৩০ ও ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল শনিবার টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ না করলেও আজ রবিবার দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

আজ রবিবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় দুজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়। আজ তৃতীয় দিন এখন পর্যন্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। তবে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে তাদের আন্দোলন সম্পর্কে পরবর্তী কর্মসূচি ও বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত শনিবার (৩০ মার্চ) ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বিকে সাময়িক বহিষ্কার করে বুয়েট প্রশাসন। তবে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে রাব্বিসহ ৬ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিসহ কয়েকটি দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ:-
১. আজ দুপুর ২টার মধ্যে লিখিতভাবে ইমতিয়াজ রাব্বির স্থায়ী একাডেমিক বহিষ্কার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

২. একই ঘটনায় ইমতিয়াজ রাব্বির সাথে বুয়েটের বাকি যেসকল শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিল তাদের একাংশের নাম পরিচয় ছবি এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে চিহ্নিত এ. এস. এম. আনাস ফেরদৌস (স্টুডেন্ট আইডি: 1818004), মোহাম্মদ হাসিন আরমান নিহাল (স্টুডেন্ট আইডি: 2106101), অনিরুদ্ধ মজুমদার (স্টুডেন্ট আইডি: 2106079), জাহিরুল ইসলাম ইমন (স্টুডেন্ট আইডি: 2112031) এবং সায়েম মাহমুদ সাজেদিন রিফাত (স্টুডেন্ট আইডি: 2106126) কে বুয়েট থেকে স্থায়ী একাডেমিক এবং হল বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

৩. বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, তারা কেন-কীভাবে প্রবেশ করার অনুমতি পেলো এ ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত নোটিশ এবং বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

৪. স্টুডেন্টদের নিরাপত্তার জন্য "রাত ১০:৩০ টার পরে সকল ছাত্রছাত্রীর ক্যাম্পাসে থাকা নিষেধ" এবং যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদেরকে রাত সাড়ে দশটার বেশি সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হলে সেক্ষেত্রে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর (ডিএসডাব্লিও) স্যারের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে।

(ক) এক্ষেত্রে যদি বহিরাগতদের অনুমতি দেয়া নাই হয়ে থাকে, তাহলে ডিএসডাব্লিও স্যারের প্রটোকল ভেঙে বহিরাগতরা মধ্যরাতে সেমিনার রুমে মিটিং করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিএসডাব্লিও স্যার নিজের প্রটোকল অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ।

(খ) আর যদি বহিরাগতদের পারমিশন দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে বুয়েটের রেজিস্ট্রার অফিসের প্রটোকল: ১১ অক্টোবর, ২০১৯ এ দেয়া ঘোষণা "বুয়েটে সকল প্রকার রাজনৈতিক সংগঠন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ" ইহার লঙ্ঘন করেছেন ডিএসডাব্লিও স্যার।

(গ) ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম, সেমিনার রুম, ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন জায়গার ব্যবহার ডিএসডাব্লিউ আওতাধীন। উনি বলেছেন, এ জায়গাগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে উনি অনুমতি দেননি। এক্ষেত্রে উনার অনুমতি ব্যতিরেকে বহিরাগতদের এ জায়গাগুলো ব্যবহার করার মতো ধৃষ্টতামূলক আচরণ ডিএসডাব্লিউ এর দায়িত্বপালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আমরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এমন ডিএসডাব্লিও এর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ চাই।

৫. আজ ৩০ মার্চের টার্ম ফাইনাল আমরা বর্জন করছি এবং আগামীকাল ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনাল সহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করছি।

৬. আন্দোলনরত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোন রকম হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না এই মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।